
লামায় জমি জবরদখলের চেষ্টা, সার্ভেয়ারের বিরুদ্ধে ৫ লাখ টাকা ঘুষ দাবির অভিযোগ।

মোহাম্মদ করিম লামা- আলীকদম প্রতিনিধি
বান্দরবানের লামায় জমি জবরদখলের চেষ্টা এবং জমিসংক্রান্ত মামলার তদন্তে পক্ষপাতমূলক প্রতিবেদন দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে উপজেলা ভূমি কার্যালয়ের সার্ভেয়ার আতিকুর রহমানের বিরুদ্ধে। সঠিক প্রতিবেদন দেওয়ার আশ্বাস দিয়ে তিনি পাঁচ লাখ টাকা ঘুষ দাবি করেছেন বলেও অভিযোগ তুলেছেন ভূমিমালিক চিত্ত রঞ্জন বড়ুয়া। এ ঘটনায় নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রতিকার চেয়ে মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) মঙ্গলবার বিকালে সম্মেলন করেছেন তিনি।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে চিত্ত রঞ্জন বড়ুয়া জানান, তিনি ও তাঁর স্ত্রী কামনা রাণী বড়ুয়া লামা উপজেলার ২ নম্বর সদর ইউনিয়নের লেইংগ্যা ঘোনা এলাকায় ২৯৫ নম্বর লামা মৌজার ১৭ নম্বর হোল্ডিংয়ের সাড়ে তিন একর জমি দীর্ঘদিন ধরে শান্তিপূর্ণভাবে ভোগদখল করে আসছেন। ওই জমিতে বাগান সৃজনসহ তাঁরা বিপুল অর্থ ও শ্রম বিনিয়োগ করেছেন।

লিখিত বক্তব্যে তিনি অভিযোগ করেন, মানবিক বিবেচনায় মো. আলমগীর নামের এক ব্যক্তিকে সাময়িকভাবে ওই জমিতে বসবাসের সুযোগ দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু পরবর্তী সময়ে তিনি বিশ্বাসভঙ্গ করে ভুয়া কাগজপত্র তৈরি করে জমির মালিকানা দাবি করতে শুরু করেন। এর মাধ্যমে জমি জবরদখলের অপচেষ্টা চালানো হচ্ছে বলে দাবি করেন চিত্ত রঞ্জন বড়ুয়া।
এ ঘটনায় তিনি ‘ভূমি অপরাধ প্রতিরোধ ও প্রতিকার আইন, ২০২৩’-এর ৮ ধারায় বান্দরবানের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসকের আদালতে ১৬/২০২৬ নম্বর মামলা দায়ের করেন। মামলাটি তদন্ত করে প্রতিবেদন দাখিলের জন্য আদালত লামার সহকারী কমিশনারকে (ভূমি) নির্দেশ দেন বলে তিনি জানান।
চিত্ত রঞ্জন বড়ুয়ার অভিযোগ, তদন্তের দায়িত্বপ্রাপ্ত সার্ভেয়ার আতিকুর রহমান সরেজমিনে যথাযথ তথ্য-উপাত্ত যাচাই না করেই বিবাদীর পক্ষে পক্ষপাতমূলক প্রতিবেদন দাখিল করেছেন। পাশাপাশি সঠিক প্রতিবেদন দেওয়ার আশ্বাস দিয়ে তাঁর কাছে পাঁচ লাখ টাকা ঘুষ দাবি করা হয়। ঘুষ দিতে অস্বীকৃতি জানানোর কারণে তাঁর বিরুদ্ধে বিভ্রান্তিকর প্রতিবেদন দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।
সংবাদ সম্মেলনে আরও অভিযোগ করা হয়, মো. আলমগীরের নামে দুটি জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) রয়েছে, যেগুলোর তথ্যে অসংগতি রয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে। এ ছাড়া ২ নম্বর লামা সদর ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান শহিদুল ইসলামের স্বাক্ষরযুক্ত একটি বিতর্কিত ওয়ারিশ সনদ ব্যবহারের অভিযোগ তোলা হয়। ওই সনদে জাতীয় পরিচয়পত্রে স্বামী-স্ত্রী হিসেবে উল্লিখিত ব্যক্তিদের ভাই-বোন হিসেবে দেখানো হয়েছে বলে দাবি করেন চিত্ত রঞ্জন বড়ুয়া। এসব নথি তৈরির পেছনে ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানসহ একটি চক্র জড়িত থাকতে পারে বলেও তিনি সন্দেহ প্রকাশ করেন। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
সংবাদ সম্মেলনে চিত্ত রঞ্জন বড়ুয়া ছয় দফা দাবি উত্থাপন করেন। দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে,জমির প্রকৃত মালিকানা ও দখল নিরপেক্ষভাবে যাচাই; অতিরিক্ত জেলা প্রশাসকের আদালতে চলমান ১৬/২০২৬ নম্বর মামলার তদন্ত প্রতিবেদন পুনর্বিবেচনা; সার্ভেয়ার আতিকুর রহমানের বিরুদ্ধে পাঁচ লাখ টাকা ঘুষ দাবির অভিযোগ তদন্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ; মো. আলমগীরের জাতীয় পরিচয়পত্র ও ওয়ারিশ সনদের সত্যতা যাচাই করে জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ; ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান শহিদুল ইসলামের সংশ্লিষ্টতা তদন্ত এবং তদন্ত চলাকালে তাঁর পরিবারের জমির বৈধ ভোগ দখল সুরক্ষিত রাখা।
সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে তিনি প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও সংশ্লিষ্ট বিচারিক কর্তৃপক্ষের কাছে অভিযোগগুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত, দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ এবং ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার দাবি জানান।
আমার সংবাদের সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
