
রামুতে স্থানীয় মজিদ ও তার ছেলেদের অত্যাচারে অতিষ্ঠ অর্ধশত সনাতনী পরিবার: প্রশাসনের হস্তক্ষেপ দাবি

কক্সবাজারের রামু উপজেলার রাজারকুল ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের পালপাড়া এলাকায় স্থানীয় আবদুল মজিদ এবং তার সন্ত্রাসী ও মাদকাসক্ত দুই ছেলে ইব্রাহিম ও মোসলেম উদ্দিন ওরফে পুতুইয়ার অত্যাচারে অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছে অর্ধশতাধিক সনাতনী পরিবার। বসতভিটা দখল, লুটপাট, মন্দির ভাঙচুর এবং প্রাণনাশের হুমকির মুখে পড়ে নিজেদের রক্ষায় প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ চেয়ে সংবাদ সম্মেলন করেছেন ভুক্তভোগী এলাকাবাসী।
শুক্রবার (২১ আগস্ট) বেলা ১১টায় রাজারকুল পালপাড়া গ্রামে আয়োজিত এই সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য দেন ভুক্তভোগী কাজল পাল, কিশোর পাল ও দোলন ধরসহ এলাকার স্থানীয় বাসিন্দারা।
সংবাদ সম্মেলনে ভুক্তভোগীরা অভিযোগ করে বলেন, "এই পালপাড়া আমাদের বাপ-দাদার পৈতৃক নিবাস। আবহমানকাল ধরে সব ধর্মের মানুষ এখানে চরম সম্প্রীতির সঙ্গে বসবাস করে আসছি। কিন্তু গত কয়েক বছর ধরে প্রতিবেশী আবদুল মজিদ আমাদের বসতভিটা জবরদখল করতে মরিয়া হয়ে উঠেছে। তার দায়ের করা মামলায় আমরা নিয়মিত আদালতে হাজিরা দিচ্ছি। আইনের প্রতি আমরা শ্রদ্ধাশীল; আইনি প্রক্রিয়ায় তারা জায়গা পেলে আমরা মেনে নেব। কিন্তু মজিদ ও তার ছেলেরা কোনো আইনের তোয়াক্কা না করে গায়ের জোরে নির্যাতন চালাচ্ছে।"
তারা আরও জানান, অভিযুক্ত ইব্রাহিম ও পুতুইয়া এলাকার চিহ্নিত সন্ত্রাসী, ছিনতাইকারী ও মাদকাসক্ত। সম্প্রতি তারা গায়ের জোরে কাজল পাল ও কিশোর পালের বসতবাড়ির ঘেরাবেড়া এবং টিনের চাল খুলে নিয়ে গেছে। কেটে ফেলা হয়েছে ভিটার অসংখ্য মূল্যবান গাছপালা। এমনকি শ্মশানের চিতার মন্দিরটি ধ্বংসের অপচেষ্টা চালিয়েছে তারা।
ভুক্তভোগীরা উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, আসামিদের বিরুদ্ধে পূর্বে মামলা করা হলে পুলিশ দুই আসামিকে গ্রেপ্তার করেছিল। তবে জামিনে বেরিয়ে এসে তারা দ্বিগুণ উদ্যামে অত্যাচার শুরু করেছে। বর্তমানে সনাতনী পরিবারের নারীদের রাস্তাঘাটে উত্ত্যক্তসহ তুলে নিয়ে যাওয়ার হুমকি দেওয়া হচ্ছে এবং পুরো পরিবারকে প্রাণনাশের ভয় দেখানো হচ্ছে।
ভিটেমাটি ও নিজেদের জীবন রক্ষায় তারা মাননীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী, স্থানীয় সংসদ সদস্য, জেলা প্রশাসক এবং পুলিশ সুপারের দৃষ্টি আকর্ষণ করে দ্রুত ও কঠোর আইনি হস্তক্ষেপের দাবি জানিয়েছেন। সংবাদ সম্মেলনে এলাকার শতাধিক নারী-পুরুষ উপস্থিত ছিলেন।
আমার সংবাদের সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
