
এমপি শাহজাহান চৌধুরীর ডিও লেটার
উখিয়া-টেকনাফের মানুষ নতুন তিনটি পুলিশ তদন্ত কেন্দ্র পাচ্ছে

কক্সবাজারের সীমান্তবর্তী রোহিঙ্গা অধ্যুষিত বিশেষায়িত উপজেলা উখিয়া-টেকনাফে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন, অপহরণ, মাদক, মানবপাচার, চোরাচালান বন্ধ, অবৈধ অস্ত্রবিস্তার রোধ ও পর্যটন শিল্পের উন্নয়ন এবং অন্যান্য সংঘবদ্ধ অপরাধ দমনে তিনটি নতুন পুলিশ তদন্ত কেন্দ্র স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এ লক্ষ্যে কক্সবাজার-৪ (উখিয়া-টেকনাফ) আসনের সংসদ সদস্য শাহজাহান চৌধুরী স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগে পৃথক তিনটি ডিও (D.O.) লেটার পাঠিয়েছেন।
ডিও লেটারে তিনি টেকনাফ উপজেলার হোয়াইক্যং ও বাহারছড়া ইউনিয়ন এবং উখিয়া উপজেলার জালিয়াপালং ইউনিয়নে পৃথক তিনটি পুলিশ তদন্ত কেন্দ্র স্থাপনের প্রস্তাব তুলে ধরেন।
জানা গেছে, সীমান্তবর্তী ও পর্যটনসমৃদ্ধ এসব এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে অতিরিক্ত পুলিশি উপস্থিতির দাবি ছিল। প্রস্তাবিত তদন্ত কেন্দ্রগুলো চালু হলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষা, অপরাধ দমন এবং জনগণের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পুলিশের কার্যক্রম আরও দ্রুত ও কার্যকর হবে। একই সঙ্গে পর্যটন এলাকার নিরাপত্তা জোরদার হওয়ায় দেশি-বিদেশি পর্যটকদের আস্থাও বৃদ্ধি পাবে।
চিঠিতে এমপি শাহজাহান চৌধুরী উল্লেখ করেন, উখিয়া-টেকনাফ বাংলাদেশের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের একটি গুরুত্বপূর্ণ সীমান্তবর্তী জনপদ। দীর্ঘ আন্তর্জাতিক সীমান্ত, নাফ নদী ও বঙ্গোপসাগরসংলগ্ন অবস্থানের কারণে এ অঞ্চলে দীর্ঘদিন ধরে রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশ, রোহিঙ্গা ক্যাম্পকেন্দ্রিক সশস্ত্র তৎপরতা, ইয়াবাসহ মাদক পাচার, অস্ত্র ও গোলাবারুদের অবৈধ প্রবেশ, মানবপাচার, চোরাচালান, অপহরণ, ডাকাতি এবং অন্যান্য সংঘবদ্ধ অপরাধ বেড়েই চলেছে। ফলে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
তিনি আরও বলেন, সীমান্তবর্তী এলাকায় জনসংখ্যা বৃদ্ধি, পর্যটন শিল্পের বিকাশ এবং বাণিজ্যিক কার্যক্রম সম্প্রসারণের ফলে পুলিশের সেবার পরিধি বাড়ানো এখন সময়ের দাবি। কিন্তু প্রস্তাবিত এলাকাগুলো মূল থানা বা বিদ্যমান তদন্ত কেন্দ্র থেকে অনেক দূরে হওয়ায় অপরাধ সংঘটিত হলে দ্রুত পুলিশি সহায়তা পৌঁছানো সম্ভব হয় না। এতে সাধারণ মানুষ সময়মতো আইনগত সেবা থেকে বঞ্চিত হন।
ডিও লেটারে আরও উল্লেখ করা হয়, ইনানী তদন্ত কেন্দ্র স্থাপিত হলে উখিয়ার জালিয়াপালং ইউনিয়নের বিস্তীর্ণ পর্যটন ও উপকূলীয় এলাকায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষা আরও কার্যকর হবে। বাহারছড়া তদন্ত কেন্দ্র চালু হলে টেকনাফ সদর ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ড এবং বাহারছড়া ইউনিয়নের ৮ ও ৯ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দারা সহজেই পুলিশি সেবা পাবেন। একইভাবে হোয়াইক্যং তদন্ত কেন্দ্র স্থাপিত হলে হোয়াইক্যং ও পার্শ্ববর্তী সীমান্ত এলাকার মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত হওয়ার পাশাপাশি অপহরণ, মাদক, চোরাচালান ও অন্যান্য সংঘবদ্ধ অপরাধ দমনে পুলিশের সক্ষমতা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পাবে।
সংসদ সদস্য শাহজাহান চৌধুরী তার ডিও লেটারে জনস্বার্থে এবং সীমান্ত এলাকার সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে দ্রুত তিনটি নতুন পুলিশ তদন্ত কেন্দ্র স্থাপনের প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ও আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
এ উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে হোয়াইক্যং ইউনিয়নের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান শাহজালাল বলেন, হোয়াইক্যং সীমান্তবর্তী একটি গুরুত্বপূর্ণ ইউনিয়ন। এখানে পুলিশ তদন্ত কেন্দ্র স্থাপিত হলে অপহরণ, মাদক, মানবপাচার ও অন্যান্য অপরাধ দমনে কার্যকর ভূমিকা রাখবে। সাধারণ মানুষও দ্রুত আইনগত সহায়তা পাবে।
বাহারছড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আমজাদ হোসেন খোকন বলেন, বাহারছড়া ইউনিয়ন পর্যটন ও সীমান্ত-দুই দিক থেকেই গুরুত্বপূর্ণ। এখানে তদন্ত কেন্দ্র স্থাপন হলে অপরাধ নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি পর্যটকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত হবে এবং এলাকার সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন ঘটবে।
এদিকে জালিয়াপালং ইউনিয়নের বাসিন্দারা বলেন, দীর্ঘদিন ধরে এই এলাকায় একটি পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের প্রয়োজন ছিল। সরকারের এ উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে জনগণের নিরাপত্তা বৃদ্ধি পাবে, অপরাধ কমবে এবং মানুষ আরও নিশ্চিন্তে বসবাস করতে পারবে।
বাস্তবিক অর্থেই প্রস্তাবিত এই তিনটি তদন্ত কেন্দ্র বাস্তবায়িত হলে উখিয়া-টেকনাফের সীমান্ত ও পর্যটন এলাকায় বসবাসকারী লাখো মানুষের পুলিশি সেবা আরও সহজলভ্য হবে। একই সঙ্গে অপহরণ, মাদক, মানবপাচার, চোরাচালান ও অন্যান্য সংঘবদ্ধ অপরাধ নিয়ন্ত্রণে ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে বলে আশা করছেন স্থানীয় বাসিন্দা ও সংশ্লিষ্টরা।
আমার সংবাদের সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
