
চকরিয়া-মাতামুহুরীতে টানা ভারিবর্ষণে পাহাড়ি ঢলে কৃষিখাত চরম বিপর্যস্ত ১৪ হাজার কৃষক,মৎস্য খাতে ১৬ কোটি ৬৭ লাখ টাকার ক্ষতি

টানা কয়েকদিনের প্রবল বর্ষণ ও উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে কক্সবাজার জেলার চকরিয়া ও মাতামুহুরী উপজেলার মৎস্য ও কৃষিখাত ব্যাপক ক্ষতির মুখে পড়েছে। জলাশয় তলিয়ে যাওয়া, পুকুর-ঘের ভেসে যাওয়া এবং মাছ-পোনা-খাবার নষ্ট হয়ে দুই উপজেলায় প্রায় ১৬ কোটি ৬৭ লাখ ৩৫ হাজার টাকার ক্ষতি ।ফসলী মাঠজুড়ে এখনো পঁচা কাদামাটা পানির র্দূগন্ধে ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে।যে কারণে কাঁচা মরিচ, ঢেঁড়শ, করলা, মিষ্টি কুমড়া, ঝিঙে, কচু, মরিচ, বেগুন, শসা, বরবটি,আলু,কচুরলতি,কচিসহ সব ধরনের খেত লন্ডভন্ড হয়ে যায়।কৃষকের অক্লান্ত পরিশ্রমের ফসল বৃষ্টি আর বন্যার পানিতে নিমিষেই শেষ হয়ে গেল।
উপজেলা মৎস্য অফিসের ০৭ জুলাই ২০২৬ তারিখের প্রাথমিক প্রতিবেদন অনুযায়ী, দুই উপজেলার ১৮টি ইউনিয়নের ৮০ জন মৎস্য চাষি এ ক্ষতির শিকার হয়েছেন।
প্রতিবেদনে বলা হয়, মাতামুহুরী উপজেলায় ৭টি ইউনিয়নের ৭৫০টি পুকুর ও ঘের এবং চকরিয়া উপজেলায় ১১টি ইউনিয়নের ৯৫০টি পুকুর ও ঘের ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সবমিলিয়ে ১৭০টি জলাশয়ের ২৩৮ একর এলাকা পানিতে তলিয়ে গেছে।আর্থিক ক্ষতির দিক থেকে মাতামুহুরীতে ক্ষতির পরিমাণ ৮ কোটি ৫৬ লাখ টাকা* এবং চকরিয়ায় ৮ কোটি ১১ লাখ ৩৫ হাজার টাকা।ক্ষতির খাতগুলোর মধ্যে রয়েছে- মাছ নষ্ট ৫ কোটি ৩৫ লাখ ৫০ হাজার টাকা, আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত মাছ ৪ কোটি ৫৮ লাখ ৯৪ হাজার টাকা, পোনা ৫৫ লাখ টাকা, মাছের খাবার ৬৮ লাখ টাকা এবং পুকুর-ঘেরের অবকাঠামো ক্ষতি ৫ কোটি ৫০ লাখ টাকা।
হঠাৎ পাহাড়ি ঢলে রাতারাতি বছরের পরিশ্রম পানিতে ভেসে যাওয়ায় দিশেহারা হয়ে পড়েছেন প্রান্তিক চাষিরা। অনেকে ব্যাংক ও এনজিও থেকে ঋণ নিয়ে মৎস্য চাষ করেছিলেন। এখন সেই ঋণ পরিশোধ নিয়েও শঙ্কায় তারা।
বিষয়টি নিশ্চিত করে মোঃ আনোয়ারুল আমিন, সিনিয়র উপজেলা মৎস্য অফিসার, চকরিয়া ও মাতামুহুরী বলেন, "ইতোমধ্যে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শন করে চাষিদের তালিকা করা হয়েছে। দ্রুত সময়ের মধ্যে পুনর্বাসন ও প্রণোদনার জন্য প্রতিবেদন জেলা প্রশাসন এবং মৎস্য অধিদপ্তরে পাঠানো হয়েছে।তিনি আরও জানান, পানি নেমে গেলে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ আরও বাড়তে পারে।
অন্যদিকে,চকরিয়া ও মাতামুহুরী উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্যমতে- দুই উপজেলায় ১৩ হাজার ৮৫২ জন কৃষক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। ১ হাজার ৬৬১ হেক্টর কৃষি জমির ফসল নষ্ট হয়ে গেছে।চকরিয়া উপজেলার হারবাং,বরইতলী,বমুবিলছড়ি, কৈয়াবিল, কাকারা, সুরজপুর-মানিকপু, ফাঁসিয়াখালী, চিরিংগা ও মাতামুহুরী উপজেলার সাহারবিল, পূর্ব বড়ভেওলা, বিএমচর, কোনাখালী ইউনিয়নের কৃষকের ফসলী খেত নষ্ট হয়ে যায়।ওই এলাকার কৃষকেরা বেশি ক্ষতিগ্রস্তের শিকার।ফসল খেত ছিল অনেক সবচেয়ে বেশি ক্ষতির মুখে পড়েছেন। অসংখ্য কৃষকের জন্য চাষাবাদই একমাত্র আয়ের উৎস।
কৃষক ফরহাদ,শামসুল আলম,আলী আহমদ সহ অসংখ্য কৃষক জানান,তাদের সংসারের একমাত্র আয়ের উৎস হলো খেতের ফসল।তারা বর্গা নিয়ে চাষ করা,মাঠভর্তি ফসল বৃষ্টি আর বন্যার পানিতে তলিয়ে কাঁদা উঠে সব শেষ হয়ে গেছে।এখন আমরা অনেক দেনাদোনা করে যে ফসল চাষ করেছি।এখন আমরা এই ঋণ কিভাবে শোধ করবো আর কিভাবে সামনে খেত খামার করবো,এসব র্দূচিন্তায় কপালে বাজ পড়েছে।
চকরিয়া ও মাতামুহুরী উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা শাহনাজ ফেরদৌসী বলেন, দুই উপজেলায় ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের তালিকা তৈরী করা হচ্ছে।কৃষকের ক্ষয়ক্ষতি, পুনর্বাসন ও কৃষি পুনরুদ্ধার সহযোগিতা দেওয়ার জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে প্রতিবেদন পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে।এরপূর্বে কৃষকের মাঝে কিছু কৃষি প্রণোদনা দেওয়া হবে।
স্থানীয়রা দ্রুত সরকারি সহায়তা ও বন্যা প্রতিরোধে টেকসই বাঁধ নির্মাণের দাবি জানিয়েছেন।
আমার সংবাদের সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
