advertisement

কক্সবাজার পৌরসভায় 'ডোর-টু-ডোর' বর্জ্য অপসারণে স্বস্তি: পরিচ্ছন্নকর্মীদের সুযোগ-সুবিধা বৃদ্ধির দাবি

মো: আবুল হাশেম

মো: আবুল হাশেম

জুলাই ১১, ২০২৬, ০৪:৩৬

কক্সবাজার পৌরসভায় 'ডোর-টু-ডোর' বর্জ্য অপসারণে স্বস্তি: পরিচ্ছন্নকর্মীদের সুযোগ-সুবিধা বৃদ্ধির দাবি
ছবি: সংগৃহীত


পর্যটন শহর কক্সবাজারকে পরিচ্ছন্ন ও দূষণমুক্ত রাখার লক্ষ্যে কক্সবাজার পৌরসভা কর্তৃক বাস্তবায়িত 'ডোর-টু-ডোর' বর্জ্য অপসারণ কার্যক্রম ব্যাপক জনপ্রিয়তা পেয়েছে। পৌর এলাকার অলিগলিতে নিয়মিত বর্জ্য সংগ্রহের ফলে কমেছে যত্রতত্র ময়লা ফেলার প্রবণতা, এতে জনমনে স্বস্তি ফিরলেও মাঠ পর্যায়ে কাজ করা পরিচ্ছন্নকর্মীদের জীবনমান ও সুযোগ-সুবিধা বৃদ্ধির দাবি জোরালো হচ্ছে।


featured banner

শহরের বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা যায়, পরিচ্ছন্নকর্মীরা প্রতিদিন ভোরে নির্দিষ্ট ভ্যানের মাধ্যমে বাসা-বাড়ি ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠান থেকে বর্জ্য সংগ্রহ করছেন। একসময় যেখানে ডাস্টবিনের দুর্গন্ধে চলাচল করা দায় ছিল, সেখানে এখন নিয়মিত বর্জ্য অপসারণের ফলে পরিবেশ অনেকটাই পরিচ্ছন্ন রয়েছে।



স্থানীয় বাসিন্দা ও ব্যবসায়ীরা জানান, পৌর কর্তৃপক্ষের এই উদ্যোগ শহরকে আগের চেয়ে অনেক বেশি পরিচ্ছন্ন রেখেছে। সড়কের পাশে ময়লার স্তূপ কমে যাওয়ায় দুর্গন্ধ এবং মশা-মাছির উপদ্রব থেকেও রক্ষা পাচ্ছেন তারা।জনসেবার এই কাজে যারা সামনের সারিতে থেকে নেতৃত্ব দিচ্ছেন, সেই পরিচ্ছন্নকর্মীদের জীবনমান ও কাজের পরিবেশ নিয়ে রয়েছে নানা সীমাবদ্ধতা।


সরেজমিনে দেখা যায়, অধিকাংশ পরিচ্ছন্নকর্মী পর্যাপ্ত সুরক্ষা সরঞ্জাম (যেমন: হ্যান্ড গ্লাভস, মাস্ক, বিশেষ পোশাক) ছাড়াই জীবনের ঝুঁকি নিয়ে কাজ করছেন। এছাড়াও, অনেক ক্ষেত্রে তাদের মাসিক বেতন ও ভাতার পরিমাণ বর্তমান দ্রব্যমূল্যের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।


পৌরসভার সংশ্লিষ্ট পরিচ্ছন্নকর্মীরা জানান, "আমরা সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত দিনরাত পরিশ্রম করে শহর পরিষ্কার রাখি। কিন্তু আমাদের নিজস্ব কোনো স্বাস্থ্যবীমা বা আকস্মিক দুর্ঘটনার ক্ষেত্রে পর্যাপ্ত সহায়তার ব্যবস্থা নেই। উৎসবের সময়েও আমরা ছুটি পাই না, তবুও শহরের মানুষ যদি আমাদের কাজে সন্তুষ্ট থাকেন, তবেই আমাদের শ্রম সার্থক।"


নাগরিক সমাজ ও সচেতন মহল মনে করছেন, কক্সবাজারকে একটি পরিকল্পিত ও আধুনিক পর্যটন নগরী হিসেবে গড়ে তুলতে হলে পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রমের মেরুদণ্ড যারা, সেই কর্মীদের সুরক্ষার বিষয়টি অগ্রাধিকার পাওয়া উচিত।

তারা পৌর কর্তৃপক্ষের কাছে জোর দাবি জানিয়েছেন যে:

  1. সুরক্ষা নিশ্চিতকরণ: প্রত্যেক কর্মীকে উন্নতমানের সুরক্ষা সরঞ্জাম সরবরাহ করা।
  2. বেতন ও ভাতা: বর্তমান অর্থনৈতিক পরিস্থিতির বিবেচনায় তাদের মাসিক বেতন যৌক্তিক পর্যায়ে উন্নীত করা।
  3. স্বাস্থ্যসেবা: পরিচ্ছন্নকর্মীদের জন্য বিনামূল্যে নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা ও জরুরি স্বাস্থ্যবীমার সুবিধা চালু করা।
  4. পরিচয়পত্র ও মর্যাদা: সামাজিক স্বীকৃতি ও সুশৃঙ্খল কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করা।


এ বিষয়ে কক্সবাজার পৌরসভার দায়িত্বশীল কর্মকর্তারা জানান, শহরকে পরিচ্ছন্ন রাখার লক্ষ্যে ডোর-টু-ডোর কার্যক্রমকে আরও আধুনিক ও শক্তিশালী করার প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। পরিচ্ছন্নকর্মীদের দাবিগুলো অত্যন্ত যৌক্তিক এবং পর্যায়ক্রমে তাদের সুযোগ-সুবিধা বৃদ্ধির বিষয়ে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হবে।


কক্সবাজারবাসীর প্রত্যাশা, পর্যটন শহরের স্বচ্ছ ভাবমূর্তি ধরে রাখতে পৌর কর্তৃপক্ষ যেমন কঠোর পরিশ্রমী পরিচ্ছন্নকর্মীদের কাজে নিয়োজিত রেখেছে, তেমনি তাদের ব্যক্তিগত সুরক্ষা ও আর্থিক নিরাপত্তার বিষয়টি নিশ্চিত করে একটি মানবিক কর্মপরিবেশ গড়ে তুলবে।



google-news-feed আমার সংবাদের সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
সম্পর্কিত খবর
মাদকের বিরুদ্ধে টেকপাড়ার তরুণদের কঠোর অবস্থান এখন পুরো পর্যটন নগরীতে অনুকরণীয়

মাদকের বিরুদ্ধে টেকপাড়ার তরুণদের কঠোর অবস্থান এখন পুরো পর্যটন নগরীতে অনুকরণীয়

বাঁকখালী নদী রক্ষায় ‘অদ্ভুত’ উদ্যোগ: উদ্ধার জমিতে রিসোর্ট-সুইমিংপুল বানাতে চায় বিআইডব্লিউটিএ

বাঁকখালী নদী রক্ষায় ‘অদ্ভুত’ উদ্যোগ: উদ্ধার জমিতে রিসোর্ট-সুইমিংপুল বানাতে চায় বিআইডব্লিউটিএ

আসামি ধরায় ব্যস্ত উখিয়া থানা পুলিশ, ইয়াবা দমনে নীরবতা!

আসামি ধরায় ব্যস্ত উখিয়া থানা পুলিশ, ইয়াবা দমনে নীরবতা!

সমুদ্র সৈকতে সম্প্রীতির মিলনমেলা

সমুদ্র সৈকতে সম্প্রীতির মিলনমেলা

মহেশখালীতে নিলাম ছাড়াই সরকারি গাছ কাটার অভিযোগ তহশিলদার ফিরোজের বিরুদ্ধে

মহেশখালীতে নিলাম ছাড়াই সরকারি গাছ কাটার অভিযোগ তহশিলদার ফিরোজের বিরুদ্ধে

প্রতিমা বিসর্জনে শেষ হলো শারদীয় দুর্গাপূজা, সম্প্রীতি ও নিরাপত্তায় প্রশংসিত জেলার সার্বিক আয়োজন

প্রতিমা বিসর্জনে শেষ হলো শারদীয় দুর্গাপূজা, সম্প্রীতি ও নিরাপত্তায় প্রশংসিত জেলার সার্বিক আয়োজন

সর্বশেষ সংবাদ