নিখোঁজের ১২ দিন পর সেপটিক ট্যাংকে মরদেহ, রোহিঙ্গা ক্যাম্পে হত্যাকাণ্ডের রহস্যে গ্রেপ্তার ৭
এম,এস রানা, উখিয়া :
উখিয়ার জামতলী রোহিঙ্গা ক্যাম্প থেকে নিখোঁজ হওয়ার ১২ দিন পর সেপটিক ট্যাংক থেকে আব্দুল হাফেজ (২০) নামে এক রোহিঙ্গা যুবকের পচাগলা মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ।
এ ঘটনায় হত্যা মামলা দায়েরের পর অভিযানে নেমে এজাহারভুক্ত সাতজনকে গ্রেপ্তার করেছে ৮ আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন (এপিবিএন)। পলাতক অন্য আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।
৮ এপিবিএন জানায়, গত ২২ জুন রাতে উখিয়ার এফডিএমএন ক্যাম্প-১৫-এর জামতলী ব্লক-জি/৮ এলাকার বাসিন্দা আব্দুল হাফেজ বন্ধুদের সঙ্গে ফুটবল খেলা দেখতে বাড়ি থেকে বের হন। এরপর তিনি আর ফিরে আসেননি। পরিবারের অভিযোগের পরপরই ৮ এপিবিএনের অধিনায়কের নির্দেশনায় জামতলী পুলিশ ক্যাম্পের সদস্যরা অনুসন্ধান শুরু করেন।
পুলিশ জানায়, ভিকটিমের স্বজন, স্থানীয় বাসিন্দা এবং এপিবিএনের সদস্যরা সম্ভাব্য বিভিন্ন স্থানে ব্যাপক তল্লাশি চালান। পাশাপাশি গোয়েন্দা তথ্য, গোপন সংবাদ ও তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় তদন্ত এগিয়ে নেওয়া হয়।
এরই একপর্যায়ে গত ৪ জুলাই রাত প্রায় ৯টার দিকে ক্যাম্প-১৫-এর ব্লক-এইচ/৭ এলাকার বাসিন্দা মোহাম্মদ রফিকের ঘরের পাশের একটি সেপটিক ট্যাংক থেকে আব্দুল হাফেজের পচাগলা ও অর্ধগলিত মরদেহ উদ্ধার করা হয়। পরে সুরতহাল শেষে মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য কক্সবাজার সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়।
এ ঘটনায় নিহতের ভাই মো. জমিনুর রহমান বাদী হয়ে উখিয়া থানায় ১৬ জনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাতনামা আরও দুই থেকে তিনজনকে আসামি করে হত্যা মামলা দায়ের করেন।
মামলার তদন্তে জড়িত থাকার অভিযোগে মো. কাশেম (৫৫), মো. জাবের (৩২), আয়েশা (৪০), তৈয়বা খাতুন (২৬), নাছিমা খাতুন (২২), ফেরদৌস (১৯) ও ফাতেমা (২২) নামে সাতজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তারা সবাই জামতলী ক্যাম্প-১৫-এর বাসিন্দা।
এ বিষয়ে ৮ আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন (এপিবিএন)-এর অধিনায়ক মোহাম্মদ রিয়াজ উদ্দিন আহমেদ বলেন, “নিখোঁজের অভিযোগ পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে ঘটনাটিকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত শুরু করা হয়। গোয়েন্দা তথ্য, গোপন সংবাদ এবং প্রযুক্তির সহায়তায় পরিচালিত অভিযানে মরদেহ উদ্ধার এবং ঘটনায় জড়িত সাতজনকে গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়েছে।”
তিনি আরও বলেন, “ঘটনার প্রকৃত কারণ উদঘাটনে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে। পলাতক আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে। তদন্ত শেষে জড়িত প্রত্যেকের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
এপিবিএনের এই কর্মকর্তা বলেন, রোহিঙ্গা ক্যাম্পে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে বাহিনী সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। সংঘটিত প্রতিটি অপরাধের দ্রুত তদন্ত এবং জড়িতদের আইনের আওতায় আনতে অভিযান অব্যাহত থাকবে।
কক্সবাজারে পৃথক দুটি পাহাড় ধসের ঘটনায় মা-মেয়েসহ নিহত ৪, সংখ্যা বাড়ার আশঙ্কা
মিয়ানমারের অস্থিরতার সুযোগে আবারও চাঙ্গা কক্সবাজারের মাদক সিন্ডিকেট: সক্রিয় পুরনো কারবারিরা
জোয়ারিনালায় কালভার্ট উদ্বোধন করলেন এমপি কাজল
মাতারবাড়ীর বেড়িবাঁধ সংস্কারে অনিয়ম: বাঁধের পাশ থেকে বালু কেটে জিও ব্যাগ স্থাপন