মিয়ানমারের অস্থিরতার সুযোগে আবারও চাঙ্গা কক্সবাজারের মাদক সিন্ডিকেট: সক্রিয় পুরনো কারবারিরা
নিজস্ব প্রতিবেদক:
মিয়ানমারের অভ্যন্তরীণ সংঘাতের সুযোগ নিয়ে কক্সবাজারের উখিয়া-টেকনাফ সীমান্ত দিয়ে বাংলাদেশে মাদকের প্রবেশ ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নিয়মিত অভিযানে নিয়মিত বিরতিতে মাদকের বড় বড় চালান আটক হলেও, নেপথ্যের মূল হোতা ও পৃষ্ঠপোষকরা থাকছে ধরাছোঁয়ার বাইরে। গোয়েন্দা সংস্থার সর্বশেষ প্রতিবেদন অনুযায়ী, অতীতে গা ঢাকা দেওয়া ইয়াবা গডফাদারদের বড় একটি অংশ পুনরায় মাদক ব্যবসায় সক্রিয় হয়ে উঠেছে।
নাফ নদী ও বঙ্গোপসাগর ব্যবহার করে এখন ইয়াবা ও আইসের চালান অহরহ প্রবেশ করছে। মিয়ানমারের বিদ্রোহী গোষ্ঠীগুলো অর্থ সংগ্রহের উৎস হিসেবে মাদককে বেছে নেওয়ায় সীমান্ত এখন মাদকের সহজ ট্রানজিট পয়েন্ট। মরিচ্যা যৌথ চেকপোস্ট, রেজুব্রীজ, শিলখালী, হোয়াইকংসহ অন্তত ৩৫টি পয়েন্ট দিয়ে অবাধে মাদক ঢুকছে। পাচারকারীরা কৌশল হিসেবে ব্যবহার করছে মাছ ধরার ট্রলার, লবণের ট্রাক, অ্যাম্বুলেন্স, এমনকি নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের আড়ালের মতো অভিনব পদ্ধতি। রোহিঙ্গা ক্যাম্পগুলোকে নিরাপদ আশ্রয়স্থল হিসেবে ব্যবহার করে সিন্ডিকেটগুলো তাদের মজুত বাড়াচ্ছে।
পুলিশ সদর দপ্তরের প্রতিবেদনে উদ্বেগ প্রকাশ করে বলা হয়েছে, মাঠপর্যায়ে বহনকারী বা ছোট কারবারিরা গ্রেপ্তার হলেও মাদকের মূল গডফাদাররা থেকে যাচ্ছে অন্তরালে। ২০১৮ সালের পর অনেক গডফাদার বন্দুকযুদ্ধে নিহত বা আত্মসর্মপণ করলেও, বর্তমানে নতুন একটি সিন্ডিকেট মাথাচাড়া দিয়ে উঠেছে। গোয়েন্দাদের নতুন খসড়া তালিকায় ২৫৫ জন মাদক কারবারির নাম উঠে এসেছে, যাদের মধ্যে রয়েছেন স্থানীয় রাজনৈতিক নেতা, জনপ্রতিনিধি, এমনকি সংবাদকর্মী।
গোয়েন্দা প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, নতুন তালিকায় থাকা মাদক কারবারিদের একটি বড় অংশে রাজনৈতিক ও সামাজিক প্রভাবশালী ব্যক্তিরা জড়িয়ে পড়েছেন।তালিকার বড় একটি অংশজুড়ে রয়েছেন পৌরসভার কাউন্সিলর ও ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান। এদের অনেকের বিরুদ্ধে ইয়াবা ব্যবসার অভিযোগ থাকলেও, অবাক করা বিষয় হলো—মাদক সংক্রান্ত কোনো মামলা তাদের বিরুদ্ধে নেই।তালিকার মাদক কারবারিদের মধ্যে বিএনপি, আওয়ামী লীগ ও জামায়াতে ইসলামীর রাজনীতির সাথে সম্পৃক্ত ব্যক্তিরা রয়েছেন। স্থানীয় পর্যায়ের কয়েকজন সংবাদকর্মীর নামও এই তালিকায় যুক্ত হয়েছে, যারা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর জব্দ করা মাদকের চালানের একাংশ কম দামে কিনে বিক্রির অভিযোগ মাথায় নিয়ে কাজ করছেন।তালিকায় থাকা অনেকেরই আর্থিক অবস্থার পরিবর্তন হয়েছে রাতারাতি। যেমন, টেকনাফের ৩২ বছর বয়সী আব্দুল্লাহ, যার বিরুদ্ধে মাদক মামলা না থাকলেও তাকে অত্র অঞ্চলের অন্যতম বড় গডফাদার হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।
কক্সবাজার জেলা পুলিশ সুপার জানান, মাদকের রুট পরিবর্তনের সাথে তাল মিলিয়ে গোয়েন্দা নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। তিনি বলেন, “মাদক ব্যবসায়ীদের অলিগলি এবং ছোট সড়কগুলোকে চিহ্নিত করে অভিযান চালানো হচ্ছে। গডফাদারদের ধরতে বিশেষ গোয়েন্দা কার্যক্রম চলমান। সরকার মাদকের বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতিতে অটল এবং যেকোনো মূল্যে এই প্রবাহ বন্ধ করতে পুলিশি তৎপরতা আরও জোরদার করা হবে।”
বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, কেবল সীমান্ত পাহারা বা ছোট ছোট চালান আটক করে এই মাদক বাণিজ্য বন্ধ করা সম্ভব নয়। তালিকায় থাকা চিহ্নিত গডফাদারদের আইনের আওতায় এনে মাদকের মূল সরবরাহ চেইন ভেঙে ফেলাই এখন বড় চ্যালেঞ্জ।
মাতারবাড়ীর বেড়িবাঁধ সংস্কারে অনিয়ম: বাঁধের পাশ থেকে বালু কেটে জিও ব্যাগ স্থাপন
টেকনাফের হ্নীলা ইউনিয়নে বিএনপির দলীয় পদ নিতে মরিয়া একটি মাদকচক্র
কক্সবাজার সদর হাসপাতালে ডায়ালাইসিস ও আইসিইউ ইউনিট স্থাপনের দাবি জানিয়ে সাংসদ শামিম আরা বেগম স্বপ্নার আবেদন
কক্সবাজার সৈকতে অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদে কঠোর বিচ ম্যানেজমেন্ট কমিটি, বাতিল সাময়িক ব্যবসায়িক কার্ড