টেকনাফের হ্নীলা ইউনিয়নে বিএনপির দলীয় পদ নিতে মরিয়া একটি মাদকচক্র
বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপি হ্নীলা ইউনিয়ন উত্তর শাখার ৬ নং ওয়ার্ড কমিটি বিলুপ্ত হতে না হতেই কমিটি নিতে মরিয়া হয়ে ওঠেছে বহু বিতর্কিত একটি মাদকচক্র। নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামীলীগ সরকারের পতনের পর কক্সবাজারের টেকনাফে শুরু হয়েছে মাদক কারবারীদের নতুন ফাঁদ। মাদক সম্রাজ্য নিরাপদ রাখতে রাজনীতিতে ঝুঁকছে চিহ্নিত মাদক কারবারীরা।মাদকের কালো টাকায় ভাগিয়ে নিচ্ছে একেরপর এক দলীয় গুরুত্বপূর্ণ পদ। অভিযোগ উঠেছে এবার হ্নীলা ইউনিয়নের সাংগঠনিক ৬ নং ওয়ার্ডের আওতাধীন পুরাতন বাজারের সুলুইচ পাড়ায় পরিবারের মাদক সম্রাজ্য নির্ভিগ্ন করতে ক্ষমতাসীন দল বিএনপির মতো একটি ঐতিহ্যবাহী সংগঠনের ওয়ার্ড সভাপতি বা আহবায়ক হতে মোটা টাকার মিশন নিয়ে মাঠে নেমেছেন মোঃ আলম নামের এক মাদককারবারী। মাদক ও মানবপাচারকাজে বাধা দেয়ায় সম্প্রতি নিজ পিতা মাতাকে ও মারধর করে মো আলম শাহিন।
ভাইয়ের মাদক সম্রাজ্য ঠিকিয়ে রাখতে বিএনপির হাল ধরতে মরিয়া কে সেই মোঃ আলম?
বিএনপি,ছাত্রদল,যুবদল,স্বেচ্ছাসেবক দলের পরিচয়দানকারী এই আলমের পরিবারে রয়েছে দলীয় পদের ভান্ডার। অভিযোগ রয়েছে মো: আলম শাহীন বিএনপি ও অংগসংগঠনকে মাদক পাচারের ঢাল হিসাবে ব্যবহার করছে।
অনুসন্ধানে বেরিয়ে এসেছে বিএনপির নামধারী মো আলম শাহীন ও তার পরিবারের গোপন তথ্য। যারা একদিকে রাজনৈতিক পদ পদবী ব্যবহার করছে, অপরদিকে সমানতালেই চালিয়ে যাচ্ছে মাদকের রমরমা ব্যবসা।
সূত্রমতে,মো আলম শাহীনের বড় ভাই জাহাঙ্গীর আলম পিতাঃ রবিউল হোসেন আনসার। মাতা: আয়েশা খাতুন, গ্রাম উত্তর ফুলের ডেইল, সুলুইচপাড়া, হ্নীলা।টেকনাফ থানার এফআই আর নং-১৪/১৪ জিআর- ১৪ তারিখ ২৮ জানুয়ারী ২০২২ মাদক নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা হয়। উক্ত মামলার এজাহারভূক্ত আসামি তার ভাই জাহাঙ্গীর । ১৬ মার্চ ২০১৭ টেকনাদ থানার এফ আই আর নং-৪৩/১৯৫ মাদক দ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে দায়ের করা উক্ত মামলায় জাহাঙ্গীর আলম এজাহার ভুক্ত আসামী।এফআই আর নং-৯০/২১৯, ৯১/২২০, তারিখ ৩১ মার্চ ২০১৯। অপর ১টি মামলা নং-৯২/২০২১ থেকে জাহাঙ্গীর কে অব্যাহতি দেয়া হলেও টেকনাফ থানার এফআইআর নং-৭৩/৪৫৪ তারিখ- ২৭ মে ২০২০ মাদক নিয়ন্ত্রন আইনে দায়ের করা মামলায় অভিযুক্ত ও চার্জশীট ভুক্ত আসামী জাহাঙ্গীর।উক্ত জাহাঙ্গীরের ছোট ভাই মোঃ আলম শাহীন পিতাঃ রবিউল আলম গ্রাম: ফুলেরডেইল সুলিশ পাড়া, তার বিরুদ্ধে কুমিল্লা চৌদ্দ গ্রাম, টেকনাফ থানা সহ রয়েছে একাধিক মাদকের মামলা।
টেকনাফ থানা এফ আই আর নং-৪২/১১১ ১৫ ফেব্রুয়ারী ২০১৭ মাদক নিয়ন্ত্রন আইনে দায়ের করা মামলায় মোঃ আলম এজাহারে অভিযুক্ত আসামী। কুমিল্লা চৌদ্দগ্রাম থানার এফআইআর নং-১২/১২ তারিখ ৬ জানুয়ারী ২০১৭। ১৯৯০ সালের মাদক নিয়ন্ত্রন আইনে দায়ের করা মামলায় মোঃ আলম এজাহারভূক্ত আসামী। এফআই আর নং-২৭ তারিখ ৩১-২০২৩। জি আর নং-৭৬৭এই মামলা থেকে মোঃ আলমকে অব্যাহতি দেয়া হলেও রয়েছে মাদকের ভিন্ন মামলা। জিআর মামলা নম্বর-১১১/২০১৭( মাদক নিয়ন্ত্রণ আইনে দায়েরকৃত মামলা) আগামী ০১/০৯/২০২৬ শুনানির দিন ধার্য্য রয়েছে।
তথা কথিত নেতা মো আলম শাহীনের আরেক ভাই মোঃ আমিন ওরফে গুরা।তার বিরুদ্ধে ও কেরানীগঞ্জ থানায় রয়েছে মাদকের মামলা।ঢাকা দক্ষিন কেরানীগঞ্জ থানার এফ আই আর নং-৯১৬৬০ তাং-২ আগস্ট ২০২১, মাদক মামলার এজাহারভুক্ত আসামী মো আমিন।
সীমান্তে মাদকের আধিপত্য বিস্তারে যে কোন উপায়ে দলীয় পদ পদবী দরকার এই মাদক চক্রের। মাদক কারবারীদের আগ্রাসী কর্মকান্ডে টেকনাফ উপজেলা বিএনপির ভাবমূর্তি এমনিতেই সমালোচিত ।
এ ব্যাপারে হ্নীলা ইউনিয়ন উত্তর শাখা বিএনপির আহবায়ক শাকের আহমদ বলেন,হ্নীলা ইউনিয়ন উত্তর শাখার ৬ নং ওয়ার্ড কমিটি বিলুপ্ত করা হয়েছে,তবে কাউকে আহবায়ক করা হয়নি। মাদকমুক্ত কমিটি উপহার দিতে আমরা কাজ করছি।
উত্তর শাখা বিএনপির সদস্য সচিব ডা নুরুল আজিম সোহেল বলেন, মাদককারবারী,অবৈধ অস্ত্রধারী সে যেই হোক কমিটিতে স্থান পাবেনা। আমাদের কারো কারণে দলের ভাবমূর্তি নষ্ট হোক তা আমরা চাইনা।
একমাসের ব্যবধানে হ্নীলা ইউনিয়নে বিএনপি ও হোয়াইকং ইউনিয়নে যুবদলের নেতা মাদক সংশ্লিষ্টতার অভিযোগে দল থেকে বহিষ্কার হয়েছেন। এমতাবস্থায় মাদকের মামলা নিয়ে দলে স্থান করে নিলে দল বিতর্কিত হবে বলে মন্তব্য করেছেন টেকনাফ উপজেলা বিএনপির সভাপতি এডভোকেট হাছান ছিদ্দিকী।
এ্যাপারে মো আলম শাহিনের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি মাদকের সাথে সম্পৃক্ত নয় এবং মাদকের কোন মামলা নেই বলে জানান।
কক্সবাজার সৈকতে অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদে কঠোর বিচ ম্যানেজমেন্ট কমিটি, বাতিল সাময়িক ব্যবসায়িক কার্ড
সদর থানা পুলিশের বিশেষ অভিযান শহরের শীর্ষ সন্ত্রাসী ‘নাগু’ গ্রেফতার, ৬ মামলার আসামি
মাতামূহুরীর মরংঘোনার খালপাড় সড়কের মরণ অবস্থাঃ ৫০ বছরেও হয়নি সংস্কার
হাসপাতাল সড়কে মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধের ছড়াছড়ি: ভোক্তা অধিকার অধিদপ্তরের অভিযানে দুই প্রতিষ্ঠানকে জরিমানা