অনিয়ম অভিযোগের প্রেক্ষিতে মাতারবাড়ি উচ্চ বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষককে অব্যাহতি
কক্সবাজারের মহেশখালী উপজেলার মাতারবাড়ি উচ্চবিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক রফিকুল ইসলামকে দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। গত ২ জুলাই মহেশখালী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ইমরান মাহমুদ ডালিম স্বাক্ষরিত এক অফিস আদেশে এ সিদ্ধান্ত জানানো হয়।
অফিস আদেশ সূত্রে জানা যায়, বিদ্যালয়ের আজীবন দাতা সদস্য ও সাবেক সভাপতির দায়ের করা অভিযোগের ভিত্তিতে উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তার মাধ্যমে তদন্ত পরিচালিত হয়। তদন্তে বিদ্যালয়ের প্রশাসনিক কার্যক্রম ও আর্থিক ব্যবস্থাপনায় বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগের সত্যতা পাওয়া যায়।
তদন্ত প্রতিবেদনে আর্থিক অনিয়ম, প্রশাসনিক আচরণে অসঙ্গতি, নীতিমালার ব্যত্যয়, শিক্ষক-কর্মচারীদের সঙ্গে বিরূপ ও অসৌজন্যমূলক আচরণ, সহকারী প্রধান শিক্ষক পদে নিয়োগের ক্ষেত্রে যোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন, ২০২৫ সালের অকৃতকার্য শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে শিক্ষা বোর্ডের বিধিবহির্ভূতভাবে ফরম পূরণের নামে অতিরিক্ত অর্থ আদায় এবং তদন্ত কার্যক্রমে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা না করার বিষয়গুলো উল্লেখ করা হয়।
প্রতিবেদনের সুপারিশের আলোকে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ মতামত দেয় যে, রফিকুল ইসলামের কাছে বিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ও আর্থিক দায়িত্ব বহাল রাখা প্রতিষ্ঠানের সুশাসন, জবাবদিহিতা ও প্রশাসনিক শৃঙ্খলার পরিপন্থী। এ পরিপ্রেক্ষিতে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার অফিস আদেশের মাধ্যমে তাকে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়।
এছাড়া তদন্তে উত্থাপিত নিয়োগ-সংক্রান্ত যোগ্যতা, আর্থিক অনিয়ম ও অন্যান্য অভিযোগের বিষয়ে বিধি অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য বিষয়টি মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড, চট্টগ্রামের কাছে পাঠানো হয়েছে।
এ বিষয়ে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক পদ থেকে অব্যাহতি পাওয়া রফিকুল ইসলামের বক্তব্য জানতে একাধিকবার তাঁর মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও ফোনে সংযোগ না পাওয়ায় তাঁর বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।
এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে মাতারবাড়ি এলাকায় ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয়দের অনেকেই মনে করছেন, বিদ্যালয়ের ইতিহাসে এ ধরনের প্রশাসনিক পদক্ষেপ বিরল এবং এটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে সুশাসন ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা।