বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গাদের খাদ্য সহায়তায় বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচির (WFP) কাছে বাংলাদেশ সরকারের চাল হস্তান্তর
কক্সবাজার ৭১ ডেস্ক:
বাংলাদেশ সরকার, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে আজ ৯ জুলাই, রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর খাদ্য সহায়তার অংশ হিসেবে ৪০০ মেট্রিক টন চালের প্রথম কিস্তি জাতিসংঘের বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচি (WFP)-এর কাছে হস্তান্তর করেছে।
উখিয়ায় অবস্থিত WFP-এর লজিস্টিকস হাবে আয়োজিত এই হস্তান্তর অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের সচিব জনাব মো. সাইদুর রহমান খান এবং বাংলাদেশে নিযুক্ত WFP-এর প্রতিনিধি ও কান্ট্রি ডিরেক্টর মিস কোকো উশিয়ামা। এছাড়া শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনার (RRRC) কার্যালয়ের অতিরিক্ত সচিব জনাব মোহাম্মদ মিজানুর রহমান অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।
১৩৯ মেট্রিক টন চালের এই প্রথম কিস্তি এমন এক সংকটময় মুহূর্তে এলো, যখন কক্সবাজার ও ভাসানচরের ক্যাম্পগুলোতে মানবিক সহায়তার প্রয়োজনীয়তা অত্যন্ত বেশি। সেখানে প্রায় ১২ লাখ রোহিঙ্গা শরণার্থী বসবাস করছেন, যার মধ্যে ২০২৪ সালের শুরু থেকে আসা প্রায় ১ লাখ ৫০ হাজার নতুন আগমনকারীও অন্তর্ভুক্ত। এই চাল প্রায় ৩০ হাজার রোহিঙ্গাকে এক মাস খাদ্য সহায়তা প্রদানে সহায়তা করবে।
পাহাড়ি ঢালে ঘনবসতিপূর্ণ ক্যাম্পে বসবাসকারী রোহিঙ্গা পরিবারগুলো প্রাকৃতিক দুর্যোগের ঝুঁকির মুখে রয়েছে। সাম্প্রতিক ভারী বর্ষণ ও বন্যা ক্যাম্পগুলোর পরিস্থিতি আরও কঠিন করে তুলেছে; এতে অনেকের ঘরবাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, জরুরি সেবা ব্যাহত হয়েছে এবং প্রাণহানির মতো দুঃখজনক ঘটনা ঘটেছে। জীবিকার সীমিত সুযোগ থাকায়, এই জনগোষ্ঠীর মৌলিক খাদ্য চাহিদার জন্য সম্পূর্ণভাবে মানবিক সহায়তার ওপর নির্ভর করতে হয়।
অনুষ্ঠানে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের সচিব জনাব মো. সাইদুর রহমান খান রোহিঙ্গাদের সহায়তায় বাংলাদেশ সরকারের প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেন।
তিনি বলেন, "কয়েক দশক ধরে বাংলাদেশ জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীকে আশ্রয় দিয়ে সহানুভূতি ও সংহতির দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে। এই অনুদান প্রমাণ করে যে, রোহিঙ্গাদের মৌলিক চাহিদা মেটাতে মানবিক সহায়তা অব্যাহত রাখতে আমরা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। পাশাপাশি, আমরা এই সংকটের টেকসই সমাধানের জন্য বিশ্বজুড়ে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছি, যাতে এসব পরিবার নিরাপদে ও সম্মানের সাথে মিয়ানমারে ফিরে যেতে পারে। এই মানবিক সাড়া প্রদানে, বিশেষ করে দক্ষ ও কার্যকর খাদ্য সহায়তা কর্মসূচির জন্য আমি WFP-এর প্রশংসা করছি।"
এই চাল WFP-এর খাদ্য সহায়তা কার্যক্রমের মাধ্যমে রোহিঙ্গাদের মধ্যে বিতরণ করা হবে। সহায়তার কার্যকারিতা নিশ্চিত করতে নিয়মিতভাবে তা পর্যালোচনা করা হয়। ২০২৬ সালের এপ্রিল থেকে WFP লক্ষ্যভিত্তিক সহায়তা প্রদান করছে, যেখানে পরিবারের খাদ্য নিরাপত্তাহীনতার মাত্রার ওপর ভিত্তি করে ভিন্ন ভিন্ন হারে রেশন দেওয়া হচ্ছে। এই পদ্ধতির মাধ্যমে সবচেয়ে বেশি খাদ্যঝুঁকিতে থাকা পরিবারগুলো যাতে সর্বোচ্চ সহায়তা পায় তা নিশ্চিত করা হচ্ছে এবং সীমিত মানবিক সম্পদের সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করা সম্ভব হচ্ছে।
সরকারের এই সহায়তার জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে WFP-এর প্রতিনিধি ও কান্ট্রি ডিরেক্টর মিস কোকো উশিয়ামা বলেন, "বাংলাদেশ সরকার এবং দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের এই সময়োপযোগী অনুদানের জন্য WFP গভীরভাবে কৃতজ্ঞ। বিশ্বজুড়ে যখন মানবিক সহায়তার সংস্থান চাপের মুখে, তখন বাংলাদেশের এই সহায়তা রোহিঙ্গা জনগণের প্রতি তাদের নেতৃত্ব এবং সংহতির বহিঃপ্রকাশ।"
খাদ্য সহায়তার পাশাপাশি, WFP নারী ও শিশুদের অপুষ্টি রোধ ও চিকিৎসার সেবা, লার্নিং সেন্টারে পড়ুয়া শিশুদের স্কুল ফিডিং এবং স্বনির্ভরতা ও দুর্যোগ ঝুঁকি হ্রাস বিষয়ক নানা উদ্যোগ পরিচালনা করছে। এছাড়া স্থানীয় জনগোষ্ঠীকে সহায়তা করতে WFP ও তাদের অংশীদাররা জলবায়ু-সহনশীল কৃষি ও বাজার সংযোগের মাধ্যমে ৩৩ হাজারেরও বেশি ক্ষুদ্র চাষিকে সহায়তা করছে, যা তাদের স্থানীয় বাজারের সাথে যুক্ত করছে।
এই কার্যক্রম অব্যাহত রাখতে আগামী ১২ মাসে WFP-এর জরুরিভাবে ১১ কোটি ৬০ লাখ (১১৬ মিলিয়ন) মার্কিন ডলার প্রয়োজন।
মিস উশিয়ামা আরও বলেন, "বাংলাদেশে বসবাসরত সমগ্র রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর জন্য মানবিক সহায়তা এখনো জীবন রক্ষাকারী হিসেবে কাজ করছে। এই দীর্ঘস্থায়ী সংকটে আমরা আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে রোহিঙ্গা পরিবারগুলোর পাশে থাকার আহ্বান জানাচ্ছি।"
আনোয়ার ইব্রাহিমের দেয়া মধ্যাহ্নভোজে অংশ নিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী
মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার দ্রুত উন্মুক্ত করতে আনোয়ার ইব্রাহিমের প্রতি আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর
নিষিদ্ধ আ. লীগের নাশকতার আশঙ্কা, ঢাকাসহ ৬ জেলায় সেনা মোতায়েনের নির্দেশ
সুইস ব্যাংক: ২০২৫ সালে বাংলাদেশিরা জমা রাখেন সাড়ে ৩ হাজার কোটি টাকার বেশি