চৌফলদন্ডী ইউনিয়ন স্বাস্থ্য কেন্দ্রের জমি দখল নিতে মরিয়া ভূমিদস্যু চক্র
সরকারের উন্নয়ন কাজে বাধা, এলাকাবাসীর ক্ষোভ
* দীর্ঘ তিন যুগ পর ব্যক্তিমালিকানা দাবি, নেপথ্যে নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠন আওয়ামী লীগ নেতা
* যে কোন মুহুর্তে ভুমিদস্যু ও এলাকাবাসীর সাথে হতে পারে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ,
* ৬০ বছরের আগেও মালিকানা দাবিদারের দখলে ছিলনা বিরোধীয় জমি,
* জমি সংক্রান্ত বিষয়ে জেলা প্রশাসকের সিদ্ধান্ত অনুযায়ীই কাজ করা হবেÑ উপ-পরিচালক, জেলা পরিবার পরিকল্পনা কার্যালয়
নিজস্ব প্রতিবেদক:
কক্সবাজার সদর উপজেলার চৌফলদন্ডী ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্রটির জমি নিয়ে সৃষ্ট জটিলতায় জনস্বাস্থ্য সেবা চরম অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে। দীর্ঘ তিন যুগের পর ব্যক্তিমালিকানা দাবিকারী একটি পক্ষ এবং সরকারি জমিতে স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্রটি স্থায়ীভাবে স্থাপনে আগ্রহী এলাকাবাসীর মধ্যে বিরোধ এখন চরমে। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে স্থানীয়রা একটি প্রভাবশালী ভূমিদস্যু চক্রের বিরুদ্ধে জনস্বার্থবিরোধী কর্মকাণ্ডের অভিযোগ এনে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন।
তথ্যমতে,চৌফলদন্ডী ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্রটি ১৯৮৫ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়। দীর্ঘ তিন যুগের পর বর্তমানে যেখানে অবস্থিত, সেটির জমি নিজের দাবি করে আসছে একটি পক্ষ। অপরপক্ষে, স্থানীয় এলাকাবাসীর দাবি, প্রতিষ্ঠার পর থেকেই এই জমি সরকারি খাস খতিয়ানভুক্ত বলে আমরা জানি। তাদের অভিযোগ, একটি কুচক্রী মহল ভুয়া ও জালিয়াতির মাধ্যমে তৈরি দলিলের ওপর ভিত্তি করে এই সরকারি জমি দখলের চেষ্টা চালাচ্ছে। বিষয়টি নিয়ে বর্তমানে আদালতে মামলা বিচারাধীন রয়েছে বলে জানা গেছে।
স্থানীয়রা অভিযোগ করেন, ইউনিয়নটির প্রায় ৮০ হাজার মানুষের স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে সরকার যখন কেন্দ্রটিকে আধুনিক হাসপাতালে রূপান্তরের উদ্যোগ নিয়েছে, ঠিক তখনই একটি স্বার্থান্বেষী মহল উন্নয়ন কাজে বাধা দিচ্ছে। এলাকাবাসীর ভাষ্যমতে, সরকার যখন ভবন নির্মাণের প্রস্তুতি নিচ্ছে, তখন নিষিদ্ধ সংগঠন আওয়ামী লীগের কিছু ব্যক্তি নিজেদের মালিকানা দাবি করে স্থানীয় জনগণকে স্বাস্থ্যসেবা থেকে বঞ্চিত করার ষড়যন্ত্রে লিপ্ত। তাদের দাবি, প্রতিষ্ঠার ৩৬ বছর পর এখন হঠাৎ করে জমির মালিকানা দাবি করা সম্পূর্ণ উদ্দেশ্যপ্রণোদিত এবং জনস্বার্থবিরোধী। বিষয়টি সুরাহা করতে গত ৫ জানুয়ারি ২০২৫ তারিখে এলাকাবাসী কক্সবাজার জেলা প্রশাসক বরাবর একটি লিখিত অভিযোগও প্রদান করেছেন।
এদিকে, সরকারি নির্দেশ পালনে কালক্ষেপণের অভিযোগে কক্সবাজার জেলা পরিবার পরিকল্পনা কার্যালয়ের উপ-পরিচালক বিপ্লব বড়ুয়ার বিরুদ্ধেও সরব একটি পক্ষ।গত ১১ জুলাই স্থানীয় গণমাধ্যমে প্রকাশিত সংবাদে দাবি করা হয়েছে, তিনি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশ সত্ত্বেও জমি বরাদ্দের প্রক্রিয়া আটকে রেখেছেন। তবে এ বিষয়ে বিপ্লব বড়ুয়া বলেন, "আমরা আমাদের করণীয় করেছি। বিষয়টি জেলা প্রশাসনের এখতিয়ারভুক্ত। জেলা প্রশাসক জমি সংক্রান্ত যে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন, সে অনুযায়ীই কাজ এগিয়ে নেওয়া হবে।"
বিষয়টি এখন আর কেবল প্রশাসনিক স্তরে সীমাবদ্ধ নেই; এটি আদালত পর্যন্ত গড়িয়েছে। অভিযুক্তদের পক্ষ থেকে আদালতে মামলা করা হয়েছে বলে জানা গেছে। অন্যদিকে, সরকারি জমিতে হাসপাতাল নির্মাণের দাবিতে সোচ্চার এলাকাবাসী বলছেন, সরকারি খতিয়ান ও আরএস/বিএস রেকর্ড অনুযায়ী জমিটি সরকারের। স্থানীয়দের আশঙ্কা, হাসপাতালের জমি নিয়ে এই টানাপড়েন যেকোনো সময় বড় ধরনের সংঘর্ষের সূত্রপাত ঘটাতে পারে।
দীর্ঘদিন ধরে চলে আসা এই সংকট নিরসনে দ্রুত তদন্ত সাপেক্ষে আইনানুগ ব্যবস্থার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় সচেতন নাগরিকবৃন্দ। তারা মনে করছেন, দ্রুত জালিয়াতির অভিযোগগুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত করে সরকারের উন্নয়ন কাজ শুরু করা না গেলে চৌফলদন্ডীর হাজার হাজার মানুষ মৌলিক স্বাস্থ্যসেবা থেকে বঞ্চিত হবেন।
এ বিষয়ে কক্সবাজার জেলা প্রশাসনের দায়িত্বশীল কোনো মন্তব্য এখনো পাওয়া না গেলেও, সাধারণ মানুষ দ্রুত একটি সুরাহা এবং জনস্বার্থে সরকারি হাসপাতালের নির্মাণকাজ নির্বিঘ্ন করার দাবি জানিয়েছেন।
মহেশখালীতে কোস্টগার্ডের অভিযানে বিপুল পরিমাণ অস্ত্র-গোলাবারুদ, সরঞ্জামাদি'সহ আটক ১
চকরিয়ায় বন্যার্তদের মাঝে ত্রাণ বিতরণ ও নদী ভাঙান পরিদর্শনে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের স্টিকার লাগানো গাড়িতে ইয়াবা পাচার, রামুতে নারীসহ আটক ৩
জেলা তথ্য অফিস, কক্সবাজারের উদ্যোগে আকস্মিক বন্যা ও পাহাড়ধস, ভূমিধস পরবর্তী সময়ে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং অন্যান্য বিপদ এড়াতে করণীয় বিষয়ে জরুরি বার্তা প্রচার