
মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানীর অভিযোগ আরসিপিআর‘র
আরএসও‘র ষড়যন্ত্রে প্রত্যাবাসনে থামিয়ে দিতে চায় কিছু রোহিঙ্গা

বার্তা পরিবেশক:
২০১৭ সালে মায়নামার জান্তা সরকারের নির্যাতনের শিকার হয়ে প্রায় ১১ লাখ রোহিঙ্গা পালিয়ে আসে বাংলাদেশে। সেই থেকে কক্সবাজারের বিভিন্ন এলাকা সহ দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়লেও কক্সবাজারের টেকনাফ ও উখিয়ার ২১ টি ক্যাম্পে আবাসন হয় ৯ লাখেরও বেশী রোহিঙ্গা। যা বর্তমানে প্রায় ১২ লাখের মত হবে। রোহিঙ্গারা আসার পর কক্সবাজারের উপর বহুমুখি চাপ সৃষ্টি হতে থাকে। যার কারণে কক্সবাজারকে দেশের সবচেয়ে ব্যয়বহুল শহর হিসাবে স্বীকৃতি এন দিয়েছে। স্থানীয়দের উপর আর্থীক চাপ, আইনশৃংখলার অবনতি ও রোহিঙ্গ বর্জে ফসলি জমি নষ্ট, চুরি ডাকাতি, খুন ছিনতাই সহ মাদক ও অবৈধ অস্ত্র এখন বিরাট প্রভাব ফেলেছে স্থানীয়দের উপর। তাই রোহিঙ্গা ভারে এখন পঙ্গু হবার পথে এলাকার সার্বিক পরিস্থিতি। এ কারণে দীর্ঘ ৯ বছর ধরে বাংলাদেশ সরকার দ্বীপাক্ষিক, কুটনৈতিক ও আন্তর্জাতিক ভাবে জোর প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে যে কোন কিছুর বিনিময়ে রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন। কিন্তু কিছু তথাকথিত সংস্থা ও আরএসও নামক সন্ত্রাসী সংগঠন রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে বার বার বিঘ্ন সৃষ্টি করে আসছে। এরা ক্যাম্পগুলোকে মাদক অস্ত্র ও সন্ত্রাসের রাজত্য কায়েম করে যাচ্ছে।
যদিও ৯৫ শতাংশ সাধারন রোহিঙ্গা চায় দেশে ফিরে যেতে। রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে যারাই কাজ করতে চায় তাদেরকে তার্গেট করে হত্যা, মিথ্যা মামলা দিয়ে দমিয়ে রাখতে চায় উক্ত আরএসও সদস্যরা। রোহিঙ্গা নেতা মুহিব্বুল্লাহকে হত্যার মাধ্যমে তারা কিছুটা হলেও সফল হয়েছে প্রত্যাবাসন দীর্ঘায়িত করতে। এর পর যারাই প্রত্যাবাসনের পক্ষে কথা বলবে সংঘটিত করবে তাদেরকে বিভিন্ন ভাবে হয়রানী করে যাচ্ছে কৌশলে এমন অভিযোগ করেন “রোহিঙ্গ কমিটি ফর পিস এন্ড রিপাট্রিশন”(আরসিপিআর) নামক সংঘটনের সভাপতি মাঃ দিল মোহাম্মদ। তিনি বলেন, গত ০৫ মে ২০২৬ ইং তারিখ রাত ৮টার সময় রোহিঙ্গা ক্যাম্প ৭, সাব ব্লক জি/৫ এলাকায় আতাতীয়ার হাতে খুন হন মৃত বাদশাহ মিয়ার পুত্র সাবেক আরএসও নেতা আব্দুল হালিম (কেফায়েত উল্লাহ) (৩৭)। এ বিষয়ে তার ভাই ফয়েজুর রহমান ফয়েজ বাদী হয়ে উখিায় থানায় গত ৭ মে ২০২৬ ইং তারিখ জিআর ১৭ নাম্বার মামলা করেন। আমি হত্যাকান্ডের আগের দিন অর্থাৎ ৪ মে

থেকে কক্সবাজার আসছি এখনো যাইনি, কিন্তু আমাকে উক্ত হত্যা মামলায় ১নং আসামী সহ আমার(আরসিপিআর) সংগঠনের ১৩ জন সদস্যকে আসামী করা হয়েছে। উল্লেখ্য যে, আরসিপিআর রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে বাংলাদেশ সরকারকে সহযোগিতাকারী সর্ববৃহৎ সংগঠন।তিনি বলেন, আমার মোবাইল নাম্বার আরআরআরসি সহ সরকারের একাধিক বাহিনীর হাতে আমার মোবাইল নাম্বার আছে। উক্ত নাম্বার লোকেশন চেক করলেই আমার অবস্থান নিশ্চিত করা যাবে। অথবা সরকারের আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করলেই আমার অবস্থান নিশ্চিত করা সম্ভব হবে। উক্ত হত্যাকান্ডের সাথে আমার দুরতম ও সম্পৃক্ততা পেলে আমি যে কোন শাস্তি মাথা পেতে নেব। মুলতঃ আমার আরসিপিআর‘র সাংগঠনিক কার্যক্রমে বাধা সৃষ্টি করাই আমাকে জড়ানো বলে মনে করি। আমরা ক্যাম্পের শান্তি শৃংখলা ফিরিয়ে আনার জন্য সব সময় আইনশৃংখলা বাহিনীকে সহযোগিতা করে আসছি সব সময়। যা ক্যাম্পে অবস্থানরত সকল বাহিনী ও প্রশাসনের কর্মকর্তারা অবগত আছে। আমরা দ্রুত প্রত্যাবাসনের মাধ্যমে আমাদের মাতৃভুমিতে ফিরতে চাই। সে যেই হোক , আমি হত্যাকান্ডের বিরোধিতা করি। আমি উক্ত হত্যাকান্ডের সুষ্ট তদন্তপুর্বক দোষি ব্যক্তিদের কঠোর শাস্তি চাই। আর নিরাপদ ব্যাক্তিদের মামলা থেকে অব্যহতি দেয়ার আবেদন করছি।
ক্যাম্প ১৭ এর মৌলানা নুর উল্লাহ বলেন, বাদির আর্জিতে বলেছেন, কেফায়েতকে ডান পাশে ও পেটে ৩টি গুলি ও পেটে ছুরির আঘাত দেখেছেন। আমার প্রশ্ন ৩ টি গুলি ও ১টি ছুরি আঘাত করতে কি ৯০ জন লোকের দরকার হয়? আর ৯০ জন লোক আকসাথে আসলে ঐ এলাকায় একটি মিছিল হয়ে যাবে। কিন্তু এতগুলো মানুষ তবুও এলাকাবাসী কোন লোককে দেখেনি কেন?
এ বিষয়ে বিভিন্ন ক্যাম্পের আলেম, শিক্ষক বিভিন্ন শ্রেনী পেশাজীবি ও নেতারা একটি বিবৃতি দিয়েছে, তারা হলেন, ক্যাম্প-১২ এর মৌলভী রহিমুল্লাহ, ক্যাম্প- ১ই এর মৌলানা আহমদ করিম, ক্যাম্প-১১ এর মাঃ আব্দুল হানিফ, ক্যাম্প-১৩ এর মাঃ মুজাম্মেল, ক্যাম্প-৭ এর ডাঃ জানে আলম, ক্যাম্প-৯ এর মোঃ ইয়াহিয়া, ক্যাম্প-১৮ এর মৌ জুবাইর, ক্যাম্প-৭ এর ফয়েজ আহমদ, ক্যাম্প-১ই এর মুফতি আলী জোহার, ক্যাম্প-২ডব্লিউ এর কামাল হোছাইন, ক্যাম্প-১৫ এর মাঃ আহমদ উল্লাহ, ক্যাম্প-১৪ এর মাঃ জমির হোছাইন, ক্যাম্প-৩ এর মাঃ রফিক, ক্যাম্প-৪ এর হাফেজ খুরশিদ আলম, ক্যাম্প-২০ এর মাঃ জোহার, ক্যাম্প-২৬ এর মাঃ করিম উল্লাহ, ক্যাম্প-২ই এর মাঃ বদি আলম, ক্যাম্প-১৯ এর মাঃ দিলদার হোছন, ক্যাম্প-১০ এর মাঃ জিয়াবুর রহমান। তারা বলেন বাদী ফয়জুর রহমান ইয়াবা সম্রাট বলে জানান এলাবাসী এবং ক্যাম্পের ইউসিআর এর সাথে জড়িত বলে জানান এলাকাবাসীও। তারা আরো জানান মৃত আব্দুল হালিম আরসা সদস্য, এআরএ, এআরও, মাদক ও অস্ত্র ব্যবসায়ী।
তারা বলেন, মামলা-হামলা বা আইনি জটিলতা তৈরি করে এলাকার শান্তি ও স্থিতিশীলতা বিনষ্ট করার চেষ্টা একটি অত্যন্ত উদ্বেগজনক বিষয়। আমরা এ হত্যাকান্ডের সুষ্ট তদন্ত পুর্বক প্রত্যাবাসনের পক্ষে সংগ্রাম করা আরসিপিআর‘র সভাপতি মাঃ দিল মোহাম্মদ সহ নিরাপরাধ মানুষদের মামলা থেকে অব্যহতির জন্য দাবি জানাচ্ছি। এবিষয়ে জানতে চাইলে, মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই মাইন উদ্দিন ভুঁইয়া বলেন, মামলাটি তদন্তাধিন আছে, তদন্তের স্বার্থে এ মুহুর্তে ঘটনার বিষয়ে জড়িত বা নিরাপরাধ কিছুই বলা যাবেনা। তবে তদন্তে কোন নিরাপরাধ ব্যাক্তি প্রমাণিত হয়ে থাকলে তাকে অবশ্যই বাদ দেয়া হবে।
আমার সংবাদের সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
