
৭ কানি জমিতে বরাদ্দ মাত্র ১০ কেজি!
উখিয়ায় পর্যাপ্ত সারের দাবিতে ক্ষুব্ধ আমন চাষিরা

কক্সবাজারের উখিয়ায় চলতি আমন মৌসুমে চরম সার সংকটে পড়েছেন স্থানীয় কৃষকরা। চাহিদা অনুযায়ী সার না পেয়ে কৃষকদের মাঝে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ ছড়িয়ে পড়েছে। অভিযোগ উঠেছে, ৭ কানি (প্রায় ২.৮ একর) আমন চাষের জন্য একজন কৃষককে বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে মাত্র ১০ কেজি সার, যা চাহিদার তুলনায় নগণ্য। ফলে ভরা মৌসুমে কাঙ্ক্ষিত আমন চাষ নিয়ে চরম শঙ্কা ও দুশ্চিন্তায় দিন কাটাচ্ছেন এ অঞ্চলের চাষিরা।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, কক্সবাজারের সীমান্ত উপজেলা উখিয়ায় বর্তমানে রোপা আমন ধান খেতে সার প্রয়োগের উপযুক্ত সময় চলছে। কিন্তু বিসিআইসি ও বিএডিসি অনুমোদিত সার ডিলার এবং খুচরা বিক্রেতাদের কাছে গিয়ে পর্যাপ্ত উপসেট ও রাসায়নিক সার পাচ্ছেন না কৃষকরা। দীর্ঘ সময় লাইনে দাঁড়িয়ে কিংবা একাধিকবার ঘুরেও মিলছে না প্রয়োজনীয় ইউরিয়া, টিএসপি, ডিএপি ও এমপিও সার।

উপজেলার একাধিক ক্ষুব্ধ কৃষক অভিযোগ করে বলেন, "যেখানে এক কানি জমিতেই প্রায় ২০ থেকে ২৫ কেজি সারের প্রয়োজন হয়, সেখানে ৭ কানি আমন চাষের জন্য আমাদের মাত্র ১০ কেজি সার মেপে দেওয়া হচ্ছে। এটুকু সার দিয়ে খেতের এক কোণাও পূরণ হয় না। সারের অভাবে গাছের বৃদ্ধি ব্যাহত হচ্ছে এবং ধানগাছ হলুদ হয়ে মরে যাওয়ার উপক্রম হয়েছে।"
কৃষকদের দাবি, সরকারিভাবে সারের পর্যাপ্ত বরাদ্দ থাকা সত্ত্বেও কৃত্রিম সংকট তৈরি করা হচ্ছে। সার ডিলাররা নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে বেশি দামে খোলা বাজারে বা গোপনে সার বিক্রি করে দিচ্ছেন বলে অভিযোগ তোলেন তারা। সারের এমন অনিয়ম ও চরম সংকট চলতে থাকলে চলতি মৌসুমে আমন ধানের কাঙ্ক্ষিত ফলন বিপর্যয় ঘটবে, যা তাদের মারাত্মক আর্থিক ক্ষতির মুখে ফেলবে।
সার সংকটের বিষয়টি স্বীকার করে স্থানীয় কৃষি বিভাগ জানায়, বরাদ্দকৃত সার সঠিক প্রক্রিয়ায় কৃষকদের মাঝে বিতরণের চেষ্টা করা হচ্ছে। তবে চাহিদা ও সরবরাহের তফাত এবং নির্দিষ্ট সময়ে অতিরিক্ত সারের চাহিদার কারণে কিছু স্থানে সাময়িক সংকট দেখা দিতে পারে।
এদিকে, কৃষি ও কৃষকের এই দুর্যোগ কাটিয়ে উঠতে দ্রুত উখিয়ায় সারের অতিরিক্ত বরাদ্দ প্রদান এবং ডিলারদের তদারকিতে কঠোর প্রশাসনিক হস্তক্ষেপ জোরদার করার জোর দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগী কৃষকরা।
আমার সংবাদের সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
