
কলেজ ছাত্রী নিবাসে ইয়াবা চালান
নেপথ্যে শীর্ষ ইয়াবা কারবারি বেলী-এরশাদ দম্পতি

**খালা-খালুর ‘প্রধান ও বিশ্বস্ত এজেন্ট’ শরিফা
**শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের উচ্চপর্যায়ে ইয়াবা সিন্ডিকেটের থাবা
**অভিভাবক ও শিক্ষকদের মাঝে তীব্র ক্ষোভ

**মূল হোতাদের ধরতে পুলিশের জোর তৎপরতা
**সোসাল মিডিয়া সহ বেশ কিছু প্রত্যক্ষসুত্রে ৪০ হাজার ইয়াবা হলেও, উদ্ধার বিশ হাজার কেন?
নিজস্ব প্রতিবেদক:
কক্সবাজার সরকারি কলেজের নারী হোস্টেল থেকে ২০ হাজার পিস ইয়াবাসহ শরিফা আক্তার নামে এক শিক্ষার্থী আটকের ঘটনায় প্রকাশ্যে এসেছে টেকনাফের এক প্রভাবশালী ইয়াবা দম্পতির নাম। প্রাথমিক তদন্ত ও জিজ্ঞাসাবাদে পুলিশ জানতে পেরেছে, উদ্ধার হওয়া এই বিপুল পরিমাণ ইয়াবার প্রকৃত মালিক ওই ছাত্রীর আপন খালা বেলী আক্তার ও খালু এরশাদুর রহমান।
অন্যদিকে ঘটনার বিষয়ে কক্সবাজারের স্থানীয় মাল্টিমিডিয়া সহ সোসাল মিডিয়ায় জানা যায়, ইয়াবার পার্সেলটা আসছে ১৭ সেপ্টেম্বর বৃহঃবার এবং কলেজ কর্তৃপক্ষ তা জব্দ করে ঐদিন গননা করে ৪০ হাজার ইয়াবা ছিল বলে প্রকাশ হলেও উক্ত ঘটনার ২দিন পর কেন তা আইন শৃংখলা বাহিনীর হাতে সোপর্দ করে? কেন ২ দিন তা গোপন রাখা হলো? কিংবা সংখ্যা নিয়েও কেন বিভ্রান্ত সৃষ্টি হলো তা তদন্ত করা দরকার বলে মনে করেন সচেতন মহল।
গত ২০ সেপ্টেম্বর রাতে কক্সবাজার সদর মডেল থানা-পুলিশ কলেজের ‘দোলনচাঁপা’ ছাত্রী নিবাসে অভিযান চালিয়ে শরিফাকে ইয়াবাসহ হাতেনাতে গ্রেফতার করে। তিনি কলেজের গণিত বিভাগের তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী এবং টেকনাফের হ্নীলা ইউনিয়নের মৌলভীবাজার এলাকার স্থানীয় এক দাখিল মাদরাসার সুপারের বড় মেয়ে।
অনুসন্ধানে জানা যায়, শরিফার খালু এরশাদুর রহমান (টেকনাফের হ্নীলা পানখালী গ্রামের মৃত আব্দুল মাবুদের ছেলে) এবং খালা বেলী আক্তার দীর্ঘদিন ধরে সীমান্ত এলাকার শীর্ষ ইয়াবা কারবারি হিসেবে পরিচিত। অতীতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অভিযানের মুখে বিদেশে পলাতক থাকা ও আত্মগোপনে যাওয়ার পর বর্তমানে তারা চট্টগ্রামের একটি অভিজাত এলাকায় বসে এই সিন্ডিকেট পরিচালনা করছিলেন।
টেকনাফ সীমান্ত থেকে বিভিন্ন মাধ্যমে পাঠানো ইয়াবার চালান কক্সবাজার শহরে রিসিভ করার দায়িত্ব ছিল শরিফার ওপর। কলেজে থাকার সুবাদে খালা-খালুর ‘প্রধান ও বিশ্বস্ত এজেন্ট’ হিসেবে তিনি হোস্টেলে এসব চালান জমা রাখতেন এবং পরে তাদের নির্দেশিত স্থানে পাঠাতেন।
শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের উচ্চপর্যায়ে ইয়াবা সিন্ডিকেটের এমন থাবা বিস্তারের ঘটনায় তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন শিক্ষক ও সচেতন অভিভাবক সমাজ। তারা বলেন, “পড়াশোনার পবিত্র স্থানে ইয়াবার চালান মজুত হওয়া অত্যন্ত উদ্বেগজনক। এই চক্রের মূল হোতা এরশাদ ও বেলী দম্পতিকে অবিলম্বে গ্রেফতার করে আইনের আওতায় আনতে হবে।”
অভিযোগের বিষয়ে জানতে অভিযুক্ত খালু এরশাদুর রহমানের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি। শরিফার বাবা স্থানীয় মাদরাসা সুপার জানান, অভিযুক্ত বেলী আক্তার তার শ্যালিকা। তবে ইয়াবার চালানের বিষয়ে মেয়েই ভালো বলতে পারবে বলে তিনি এড়িয়ে যান।
কক্সবাজার সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শেখ মোহাম্মদ আলী জানান, আটক ছাত্রীর দেয়া তথ্যের ভিত্তিতে ইয়াবা সিন্ডিকেটের নেপথ্যে থাকা গডফাদারদের চিহ্নিত করা হয়েছে। মূল অপরাধীদের গ্রেফতার ও আইনের আওতায় আনতে পুলিশি অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
আমার সংবাদের সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
