advertisement

বাঁকখালী নদী রক্ষায় হাইকোর্টের পূর্ণাঙ্গ রায়ে যেসব পর্যবেক্ষণ ও দিকনির্দেশনা রয়েছে

কাগজের রেকর্ডে সীমাবদ্ধ নয়, সরেজমিনে বাঁকখালী নদীর গতিপথ ও জোয়ারের সীমা মেপে সীমানা নির্ধারণ

মো: আবুল হাশেম

মো: আবুল হাশেম

সেপ্টেম্বর ১২, ২০২৬, ০১:১৮

কাগজের রেকর্ডে সীমাবদ্ধ নয়, সরেজমিনে বাঁকখালী নদীর গতিপথ ও জোয়ারের সীমা মেপে সীমানা নির্ধারণ
ছবি: সংগৃহীত

কক্সবাজার শহরের প্রাণ হিসেবে পরিচিত বাঁকখালী নদী রক্ষায় ঐতিহাসিক ও কঠোর নির্দেশনা এসেছে উচ্চ আদালত থেকে। নদীর আসল অস্তিত্ব ও সীমানা নির্ধারণের ক্ষেত্রে কেবল সিএস, আরএস বা বিএস-এর মতো কাগজের রেকর্ডের ওপর নির্ভর না করে, সরাসরি সরেজমিনে পর্যালোচনা ও নদীর বাস্তব অবস্থা মূল্যায়নের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।


নির্দেশনায় স্পষ্ট বলা হয়েছে—শুধু নথি-পত্রের ম্যাপে সীমাবদ্ধ না থেকে বাঁকখালী নদীর স্বাভাবিক প্রবহমান গতিপথ, বর্ষা মৌসুম এবং দৈনন্দিন জোয়ার-ভাটার সময় জলের সর্বোচ্চ সীমারেখা (High Water Mark) সরাসরি মেপে বাস্তব সীমানা নির্ধারণ করতে হবে।

featured banner


পরিবেশবাদী সংগঠন বাংলাদেশ পরিবেশ আইনবিদ সমিতি (বেলা)-এর দায়ের করা এক রিট পিটিশনের প্রেক্ষিতে নদী রক্ষায় হাইকোর্টের পূর্ণাঙ্গ রায়ে এসব পর্যবেক্ষণ ও দিকনির্দেশনা উঠে আসে।




বাস্তব জলসীমা পর্যালোচনা:শুধু পুরনো সিএস কিংবা আরএস খতিয়ান বা মৌজা নকশার ওপর ভিত্তি করে নদীর সীমানা চিহ্নিত করলে বর্ষা কিংবা জোয়ারে প্লাবিত নদীর বিস্তীর্ণ অংশ বাদ পড়ে যাওয়ার ঝুঁকি থাকে। সে জন্য জোয়ারের সর্বোচ্চ পানি কতদূর পর্যন্ত পৌঁছায় এবং বর্ষায় নদীর প্লাবনভূমি কতটুকু বিস্তৃত হয়, তা সরেজমিনে সরেজমিনে পর্যবেক্ষণ করতে হবে।


দখলদার উচ্ছেদে আধুনিক পদ্ধতি: কেবল কাগজপত্রের জরিপ নয়, বাস্তব জলপ্রবাহের উপর ভিত্তি করে সীমানা পিলার (Boundary Pillars) স্থাপন করতে হবে। এরপর সেই সীমানার ভেতর থাকা সব ধরনের অবৈধ স্থাপনা ও দখলদারদের তালিকা তৈরি করে দ্রুত উচ্ছেদ নিশ্চিত করতে হবে।


পরিবেশগত গুরুত্ব বিবেচনা:বাঁকখালী নদী ও সংলগ্ন এলাকাকে 'প্রতিবেশগত সংকটাপন্ন এলাকা' (ECA) হিসেবে ঘোষণা ও গেজেট প্রকাশের নির্দেশের পাশাপাশি নদীর স্বাভাবিক নাব্যতা ও জীববৈচিত্র্য ফিরিয়ে আনতে এই বাস্তবমুখী নির্দেশ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।


পরিবেশবিদ ও নদী রক্ষা আন্দোলনের নেতৃবৃন্দ আদালতের এই নির্দেশনাকে অত্যন্ত যুগান্তকারী বলে মনে করছেন। তাঁদের মতে, কাগজের নথির সুযোগ নিয়ে প্রভাবশালীরা প্রায়শই ভরাট করা চর বা প্যারাবন নদীর বাইরে দেখিয়ে দখলের পাঁচতারা বাণিজ্য চালায়। কিন্তু সরজমিনে নদীর সর্বোচ্চ জোয়ারের পানির সীমারেখাকে ভিত্তি ধরে সীমানা চিহ্নিত করা হলে বাঁকখালী নদীকে চিরতরে গ্রাসের হাত থেকে রক্ষা করা সম্ভব হবে।


প্রশাসন জানিয়েছে, আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী জেলা প্রশাসন, পানি উন্নয়ন বোর্ড এবং পরিবেশ দপ্তরের যৌথ সমন্বয়ে নদীর প্রবাহ সরেজমিনে পর্যবেক্ষণপূর্বক সঠিক সীমানা নির্ধারণের কাজ শুরু করা হবে।

google-news-feed আমার সংবাদের সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
সম্পর্কিত খবর
অ্যাড: মোহাম্মদ হারুন অর রশিদ এর মৃত্যুতে কক্সবাজার ৭১ পরিবারের শোক প্রকাশ

অ্যাড: মোহাম্মদ হারুন অর রশিদ এর মৃত্যুতে কক্সবাজার ৭১ পরিবারের শোক প্রকাশ

চকরিয়া সরকারি কলেজের সামনে থেকে র‍্যাবের দেশীয় বন্দুক উদ্ধার

চকরিয়া সরকারি কলেজের সামনে থেকে র‍্যাবের দেশীয় বন্দুক উদ্ধার

বাঁকখালী নদী রক্ষায় হাইকোর্টের যুগান্তকারী রায়

বাঁকখালী নদী রক্ষায় হাইকোর্টের যুগান্তকারী রায়

উচ্ছেদ অভিযানের আগেই জেলা কারাগার সংলগ্ন মাটিয়াতলী এলাকায় রণক্ষেত্র, হামলা-সংঘর্ষে আহত ৪

উচ্ছেদ অভিযানের আগেই জেলা কারাগার সংলগ্ন মাটিয়াতলী এলাকায় রণক্ষেত্র, হামলা-সংঘর্ষে আহত ৪

এমপিওভুক্ত শিক্ষক হলেও ১০ বছর ধরে কক্সবাজার পৌরসভার ৯ ও ১০ নং ওয়ার্ডের নিকাহ রেজিস্ট্রার সালাহ উদ্দিন

এমপিওভুক্ত শিক্ষক হলেও ১০ বছর ধরে কক্সবাজার পৌরসভার ৯ ও ১০ নং ওয়ার্ডের নিকাহ রেজিস্ট্রার সালাহ উদ্দিন

উখিয়ায় নিখোঁজের দুই ঘণ্টার মধ্যে ৭ বছরের শিশুকে উদ্ধার

উখিয়ায় নিখোঁজের দুই ঘণ্টার মধ্যে ৭ বছরের শিশুকে উদ্ধার

সর্বশেষ সংবাদ