
শিক্ষকতার পাশাপাশি কাজীর পদ দখল
এমপিওভুক্ত শিক্ষক হলেও ১০ বছর ধরে কক্সবাজার পৌরসভার ৯ ও ১০ নং ওয়ার্ডের নিকাহ রেজিস্ট্রার সালাহ উদ্দিন

এমপিওভুক্ত শিক্ষক হয়েও দীর্ঘ ১০ বছর ধরে সরকারিভাবে নিকাহ রেজিস্ট্রার (কাজী) হিসেবে কর্মরত রয়েছেন সালাহ উদ্দিন মোহাম্মদ তারেক নামের এক ব্যক্তি। চাকরি বিধিমালাকে তোয়াক্কা না করে একই সাথে দুটি স্থান থেকে সরকারি সুযোগ-সুবিধা ও বেতন-ভাতা ভোগ করার এই ঘটনায় ক্ষোভ ও বিস্ময় প্রকাশ করেছেন সচেতন মহল।

অনুসন্ধানে জানা যায়, কুতুবদিয়া উপজেলার বড়ঘোপ ইউনিয়নের স্থায়ী বাসিন্দা সালাহ উদ্দিন মোহাম্মদ তারেক (পিতা: আবদুল মান্নাত, মাতা: উম্মে কুলসুম) ১৯৯৪ সালে কক্সবাজার পৌর এলাকার ২ নং ওয়ার্ডের নুনিয়ারছড়ায় অবস্থিত ‘মাদ্রাসা-এ তৈয়বিয়া তাহেরিয়া সুন্নিয়া মাদ্রাসায়’ সহকারী মৌলভী হিসেবে যোগদান করেন। পরবর্তীতে ২০০০ সালের ২৬ জুলাই তিনি সহকারী সুপারিন্টেন্ডেন্ট হিসেবে পদোন্নতি পান। বর্তমানেও তিনি উক্ত পদে কর্মরত আছেন এবং ২০১০ সালের ৬ মে (স্মারক নং: শাং ১৩/এমপিও ১২/২০০৯/১৮৪) এমপিওভুক্ত হন। তিনি জনতা ব্যাংক কক্সবাজার শাখা (হিসাব নং: ০০২১৬২৬২৬, বেতন কোড: ০৮) থেকে নিয়মিত সরকারি বেতন-ভাতা উত্তোলন করছেন।
অভিযোগ উঠেছে, সরকারি চাকরির তোয়াক্কা না করে আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের ২০১৬ সালের ১৯ সেপ্টেম্বরের এক স্মারকে (বিচার ৭/২ এন ৬৫/৭৭-৪৬৬) সালাহ উদ্দিন কক্সবাজার পৌরসভার ৯ ও ১০ নং ওয়ার্ডের নিকাহ রেজিস্ট্রার হিসেবে নিয়োগ পান। সে হিসেবে গত এক দশক ধরে তিনি সরকারি চাকরি বিধিমালার তোয়াক্কা না করে দুটি পদ থেকে সুবিধা গ্রহণ করে আসছেন।
স্থানীয় অধিবাসী শাহ আলম ও জাফর আলম জানান, একজন কর্মরত শিক্ষক কীভাবে কাজী হিসেবে নিয়োগ পেলেন, তা নিয়ে শুরু থেকেই বিতর্ক ছিল। বিগত সরকারের সময়ে জেলা আওয়ামী লীগের এক শীর্ষ নেতার ছত্রছায়ায় থাকায় কেউ প্রতিবাদ করার সাহস পাননি। তৎকালীন ওই প্রভাবশালী নেতার ঘনিষ্ঠ হওয়ার সুযোগ নিয়ে তিনি এই অনিয়ম চালিয়ে গেছেন। তাদের দাবি, কোনো ব্যক্তি একইভাবে দুটি সরকারি পদ বা সুবিধা ভোগ করতে পারেন না। এখানে সংশ্লিষ্ট দপ্তরের কিছু কর্মকর্তার যোগসাজশ বা আইনের ভুল ব্যাখ্যা থাকতে পারে।
কক্সবাজার পৌরসভার স্থানীয় অধিবাসীদের মতে, সালাহ উদ্দিনের কর্মস্থল ২ নং ওয়ার্ডের নুনিয়ারছড়ায়, অথচ তিনি কাজীর দায়িত্ব পালন করছেন ৯ ও ১০ নং ওয়ার্ডে। আবার তিনি মূলত কুতুবদিয়ার বাসিন্দা হয়ে ভোটার স্থানান্তর করেছেন ১০ নং ওয়ার্ডে। ফলে ‘নিজ এলাকায় কর্মরত’ থাকার যে আইনি ব্যাখ্যা দাঁড় করানো হচ্ছে, তা রেজিস্ট্রি অফিসের কর্মকর্তাদের যোগসাজশ ছাড়া সম্ভব নয়।
এ বিষয়ে জানতে কাজী ও শিক্ষক সালাহ উদ্দিন মোহাম্মদ তারেকের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।
কক্সবাজার জেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার গোলাম মোস্তফা স্পষ্ট জানিয়ে বলেন, "এমপিওভুক্ত কোনো শিক্ষক একই সাথে নিকাহ রেজিস্ট্রার হিসেবে কর্মরত থাকতে পারেন না। এটি সম্পূর্ণ বেআইনি ও অবৈধ। লিখিত অভিযোগ পেলে এ বিষয়ে দ্রুত প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।"
অন্যদিকে, কক্সবাজার জেলা রেজিস্ট্রার রেজাউল করিম বকসী বলেন, "এমপিওভুক্ত শিক্ষক নির্দিষ্ট নিজস্ব এলাকার প্রতিষ্ঠানে হলে কাজী হিসেবে থাকতে পারেন বলে আমার জানা আছে। তবে বিষয়টি আরো অধিকতর তদন্ত করে দেখতে হবে।"
আইন ও শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে দ্রুত নিরপেক্ষ তদন্ত চালিয়ে এই জালিয়াতির বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার জোর দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় সচেতন নাগরিক সমাজ।
আমার সংবাদের সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
