
আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণে ‘ক্লিন হার্ট’-এর আদলে কঠোর অভিযানে টার্গেটে যেসব অপরাধ ও অপরাধীচক্র

কক্সবাজার জেলাসহ সার দেশের বিভিন্ন স্থানে জমি দখল, অস্ত্র প্রদর্শন, চাঁদাবাজি এবং শীর্ষ সন্ত্রাসীদের নতুন করে মাথাচাড়া দিয়ে ওঠার প্রেক্ষাপটে আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণে কঠোর যৌথ অভিযানের চিন্তাভাবনা করছে সরকার। ২৪ বছর আগে ২০০২ সালে পরিচালিত আলোচিত ‘অপারেশন ক্লিন হার্ট’-এর আদলে গঠিত সমন্বিত অভিযানের মাধ্যমে অপরাধী ও তাদের নেপথ্যে থাকা ইন্ধনদাতাদের দমনে বিশেষ ছক আঁকা হচ্ছে।
সম্প্রতি কক্সবাজার জেলাসহ সারাদেশের এলাকাগুলোতে বিরোধপূর্ণ জমি পাল্টা-পাল্টা দখল, মাদক কারবার,বাড়িঘর ও প্রতিষ্ঠানে হামলা-ভাঙচুরের ঘটনা সামনে এসেছে। এসব ঘটনার পেছনের অস্ত্রধারী ক্যাডার ও ভূমিদস্যু সিন্ডিকেটকে অভিযানের প্রধান লক্ষ্য হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।

কারাগার থেকে কিংবা বিদেশ থেকে অপরাধ জগৎ নিয়ন্ত্রণকারী শীর্ষ সন্ত্রাসীদের অনুসারী ও তাদের ভাড়াটে শুটারদের নজরদারিতে আনা হচ্ছে। এছাড়া দেশে অবৈধ অস্ত্রের মহড়া ও অনুপ্রবেশের সাথে জড়িতদের শনাক্ত করে অস্ত্র উদ্ধারে জোরালো সাঁড়াশি অভিযান শুরুর পরিকল্পনা রয়েছে।
যেসব প্রভাবশালী বা রাজনৈতিক ছত্রছায়ায় থাকা ব্যক্তি সরাসরি মাঠে না নেমেও পেছন থেকে অর্থায়ন, অস্ত্র সরবরাহ ও সন্ত্রাসীদের আশ্রয়-প্রশ্রয় দিচ্ছেন, তাদেরও অপরাধী তালিকা ও তদন্তের আওতায় এনে কঠোর আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার রূপরেখা তৈরি করা হচ্ছে।
এলাকাভিত্তিক কিশোর গ্যাং ও বিভিন্ন মহল্লায় আধিপত্য বিস্তারকারী উঠতি সন্ত্রাসীরা সাধারণ মানুষের জীবনে আতঙ্ক সৃষ্টি করছে। এসব নেটওয়ার্ক ভেঙে দিতে টহল, অনলাইন মনিটরিং এবং চেকপোস্ট বসিয়ে নিয়মিত ও বিশেষ ঝটিকা অভিযান জোরদার করা হচ্ছে।
পরিবহন খাত, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান এবং বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্প থেকে জোরপূর্বক চাঁদা আদায়কারী এবং সিন্ডিকেটভিত্তিক চক্রগুলোকে এ অভিযানের আওতায় নজরদারিতে রাখা হয়েছে।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর উচ্চপর্যায়ের সূত্রে জানা গেছে, সাম্প্রতিক এসব অস্থিতিশীল কর্মকাণ্ডকে বিচ্ছিন্ন ঘটনা হিসেবে না দেখে গভীরভাবে খতিয়ে দেখা হচ্ছে। অপরাধের সাথে যুক্ত প্রতিটি স্তরের ব্যক্তি ও তাদের সহযোগীদের আইনের আওতায় এনে জনমনে শান্তি ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই এই সম্ভাব্য সমন্বিত অভিযানের প্রধান উদ্দেশ্য।
আমার সংবাদের সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
