
আরসা কমান্ডার হাফেজ সানাউল্লাহর অপরাধের সাম্রাজ্য: জালিয়াতির মাধ্যমে এনআইডি ও হত্যাকাণ্ডের চাঞ্চল্যকর তথ্য!

নিজস্ব প্রতিবেদক:
মিয়ানমারের উগ্রপন্থী সশস্ত্র সংগঠন ‘আরাকান রোহিঙ্গা স্যালভেশন আর্মি’ (অজঝঅ)-র কমান্ডার-ইন-চিফ আতাউল্লাহর ঘনিষ্ঠ সহযোগী ও সংগঠনটির সিনিয়র কমান্ডার হাফেজ সানাউল্লাহর বিরুদ্ধে একের পর এক চাঞ্চল্যকর অপরাধের অভিযোগ উঠে এসেছে। ক্যাম্পকেন্দ্রিক খুন, অপহরণ, চাঁদাবাজি, মাদক ব্যবসা ও আন্তর্জাতিক মানব পাচারের মূল হোতা হিসেবে সে এলাকায় এক আতঙ্কের নাম।
অনুসন্ধানে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, অভিযুক্ত হাফেজ সানাউল্লাহর বাবার নাম মৃত সুলতান আহমেদ। তার মূল পৈতৃক ঠিকানা মিয়ানমারের আরাকান রাজ্যের বুচিদং এলাকার ‘উলাপে তমপাড়া’ গ্রামে। বর্তমানে সে রোহিঙ্গা ক্যাম্প-১৮ এর বাসিন্দা। তবে অত্যন্ত উদ্বেগজনক বিষয় হলো, মিয়ানমারের নাগরিক ও চিহ্নিত সন্ত্রাসী হওয়া সত্ত্বেও সে জালিয়াতির মাধ্যমে বাংলাদেশ সরকারের জাতীয় পরিচয়পত্র (ঘওউ) হাতিয়ে নিয়েছে। একজন বিদেশি সন্ত্রাসী কীভাবে দেশের এনআইডি কার্ড পেল, তা নিয়ে তীব্র প্রশ্নের সৃষ্টি হয়েছে।

হাফেজ সানাউল্লাহ আরসার উলুম আই বডি জিম মাদারের শীর্ষ কমান্ডার হিসেবে সন্ত্রাসী কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে। তার বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট যেসব গুরুতর অভিযোগ রয়েছে স্থানীয় আলোচিত মাওলানা আলী হোসেন এবং তার মেয়ের জামাই হাসান হত্যাকাণ্ডের সরাসরি নেতৃত্ব ও বাস্তবায়নকারী হিসেবে তার নাম রয়েছে। নিজের সংগঠনের আধিপত্য বজায় রাখতে সে একাধিক নিরীহ রোহিঙ্গাকে নৃশংসভাবে হত্যা করেছে।সে কক্সবাজার ও ক্যাম্পকেন্দ্রিক মাদকের বিশাল সিন্ডিকেট পরিচালনা করে এবং আন্তর্জাতিক মানব পাচার চক্রের অন্যতম গডফাদার হিসেবে কাজ করে। বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থার কতিপয় অসাধু চক্রের সহায়তায় সে সাধারণ রোহিঙ্গাদের মিয়ানমারে প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া বাধাগ্রস্ত করতে নেপথ্যে কলকাঠি নাড়ছে। ক্যাম্প ও সীমান্তবর্তী এলাকা থেকে সাধারণ মানুষকে অপহরণ করে মোটা অঙ্কের মুক্তিপণ ও চাঁদা আদায় করা তার অন্যতম আয়ের উৎস।
কয়েক মাস আগে র্যাব-১৫ এর একটি সফল অভিযানে এই শীর্ষ সন্ত্রাসী হাফেজ সানাউল্লাহকে গ্রেফতার করা হয়েছিল। তবে পরবর্তীতে জামিনে মুক্ত হয়ে সে পুনরায় আরও বেশি বেপরোয়া হয়ে অপরাধ কর্মকাণ্ড শুরু করে। তার ব্যবহৃত মোবাইল নম্বরটি (**০১৮৩২২৮০৮০৬**) ব্যবহার করে বিভিন্ন স্থান থেকে সন্ত্রাসী গ্যাং পরিচালনা করা হচ্ছে।
হাফেজ সানাউল্লাহর কারণে সাধারণ ও মজলুম রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠী এবং স্থানীয় বাসিন্দারা চরম নিরাপত্তা হীনতায় ভুগছেন। তার হাত থেকে রক্ষা পেতে সাধারণ রোহিঙ্গাদের সতর্ক থাকার আহ্বান জানানো হয়েছে।
একই সাথে জালিয়াতির মাধ্যমে এনআইডি গ্রহণকারী ও জোড়া হত্যার আসামি হাফেজ সানাউল্লাহকে দ্রুত আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির জন্য গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করছেন ভুক্তভোগী ও সচেতন মহল।
আমার সংবাদের সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
