
ফান্ডের তীব্র সংকট
নিরাপত্তার ঝুঁকি নিয়েই ট্রানজিট ক্যাম্প থেকে মূল ক্যাম্পে ফিরছেন রোহিঙ্গারা

উখিয়া টেকনাফ রোহিঙ্গা শরনার্থী ক্যাম্প থেকে গত ১০ বছরে বিভিন্ন সময়ে ঘটে যাওয়া অগ্নিকাণ্ড, প্রাকৃতিক দুর্যোগ কিংবা বিভিন্ন ক্যাম্পে সশস্ত্র গ্রুপের হামলা ও প্রাণনাশের হুমকি থেকে বাঁচতে যাদের ঠাঁই হয়েছিল ট্রানজিট ক্যাম্পে, তাদের আবারও অনিশ্চয়তার মুখে ফিরতে হচ্ছে আগের স্থানগুলোতে অথবা নতুন কোন ক্যাম্প শেল্টারে। জাতিসংঘের শরণার্থী বিষয়ক সংস্থা (ইউএনএইচসিআর)-এর ফান্ড সংকটের কারণে ট্রানজিট ক্যাম্পে থাকা রোহিঙ্গা পরিবারগুলোকে স্ব-স্ব ক্যাম্পে কিংবা নতুন করে অস্থায়ী শেল্টার নির্মাণ করে স্থানান্তর করা হচ্ছে।
তবে ক্ষতিগ্রস্ত ও অপরাধী চক্রের ভয়ে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গারা বলছেন, ফান্ড না থাকার অজুহাতে নিরাপত্তার চরম ঝুঁকি থাকা সত্ত্বেও তাদের পুনরায় ক্যাম্পে পাঠানো হচ্ছে। এতে করে খাদ্য, চিকিৎসা ও নিরাপত্তার মতো মৌলিক বিষয়গুলো নিয়ে চরম দুশ্চিন্তায় পড়েছেন তারা।
সাধারণত প্রাকৃতিক দুর্যোগ বা অগ্নিকাণ্ডে গৃহহারা রোহিঙ্গাদের সাময়িক স্থান হতো উখিয়ার কুতুপালং ট্রানজিট ক্যাম্পে। কিন্তু এ ক্যাম্পের অনেক বাসিন্দার জীবনের গল্প সম্পূর্ণ ভিন্ন। বিভিন্ন ক্যাম্পে রাতের আঁধারে সক্রিয় সশস্ত্র গ্রুপ ও অপরাধী চক্রের হাতে খুন, গুম কিংবা ধর্ষণের শিকার পরিবারগুলোকে নিরাপত্তার স্বার্থে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও সংস্থাগুলো এই ট্রানজিট ক্যাম্পে আশ্রয় দিয়েছিল।
বর্তমানে এই ক্যাম্পটি ছাড়তে হওয়ায় পরিবারগুলো নতুন করে প্রাণনাশের আতঙ্কে ভুগছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ট্রানজিট ক্যাম্পের এক বাসিন্দা জানান, "আমরা ক্যাম্পের সন্ত্রাসী গ্রুপের হাত থেকে বাঁচতে এখানে আশ্রয় নিয়েছিলাম। এখন আবার সেখানেই ফেরত পাঠানো হচ্ছে। ফান্ডের অভাবে আমাদের জীবন এখন চরম ঝুঁকির মুখে।"
মান মানবিক সংস্থাগুলোর বিশ্বব্যাপী বাজেট ছাঁটাইয়ের কারণে ট্রানজিট ক্যাম্পসহ সাধারণ ক্যাম্পগুলোতে খাদ্য সহায়তা ও স্বাস্থ্যসেবা আগেই সংকুচিত করা হয়েছে। ট্রানজিট ক্যাম্পে দীর্ঘমেয়াদে শরণার্থী রাখার মতো আর্থিক সামর্থ্য না থাকায় কর্তৃপক্ষ তাদের স্ব-স্ব ক্যাম্পে পুনর্বাসিত করছে। ফলে একদিকে ফান্ডের অভাবে খাবারের অভাব, অন্যদিকে ক্যাম্পের ভেতরের অপরাধীদের ভয়—দুটো মিলেই রোহিঙ্গাদের জীবন এখন পুরোপুরি কোণঠাসা।
এই বিষয়টি নিয়ে জানতে চাইলে অতিরিক্ত শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনার (আরআরআরসি) মিজানুর রহমান জানান, ট্রানজিট ক্যাম্পের মূল উদ্দেশ্যই হলো সাময়িক আশ্রয় দেওয়া।
তিনি বলেন ট্রানজিট ক্যাম্পটি সম্পুর্ন একটা অস্থায়ী আশ্রয়কেন্দ্র কোন ধরনের দুর্ঘটনা, অগ্নিকাণ্ড বা বিশেষ পরিস্থিতিতে সাময়িকভাবে রোহিঙ্গাদের নিরাপত্তা ও সহায়তার জন্য রাখা হয়। পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে কিংবা অবস্থার উন্নতি হলে নিয়ম অনুযায়ী তাদের পুনরায় স্ব-স্ব ক্যাম্পে পাঠানো হয়। এখনো সেই সাধারণ প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবেই তাদের পাঠানো হচ্ছে।
২
৪/২
চকরিয়ায় ১২ হাজার পশু ও হাঁস-মুরগির মৃত্যু,প্রায় সাড়ে ৮কোটি টাকার ক্ষতি
চকরিয়া সংবাদদাতা
গেল ৬ জুলাই থেকে ১৪ জুলাই পর্যন্ত টানাভারি বর্ষণে উজান থেকে আসা পাহাড়ি ঢলের সৃষ্ট বন্যা আর জলবদ্ধতায় কক্সবাজারের চকরিয়া উপজেলায় প্রাণী সম্পদ খাতে বড় বিপর্যস্ত।
উপজেলা প্রাণিসম্পদ দপ্তরের তথ্যমতে-চলিত জুলাই মাসে আকস্মিক বন্যার পানিতে তলিয়ে গিয়ে ১২ হাজার ১২৯টি পশু ও হাঁস,মুরগি মারা যান।বন্যায় ৫৮৩টি খামার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।এতে আর্থিক ক্ষতি হয় প্রায় ৮ কোটি ৩৬ লাখ টাকা।
তবে বন্যায় সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন ছোট এবং মাঝারি খামারিরা। সরাসরি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ২৬২টি গবাদি পশুর খামার। পানিতে সম্পূর্ণ তলিয়ে গেছে ৩৩০টি পোলট্রি মুরগির খামার।
গ্রাম-গঞ্জের মানুষ শখের বশে পশু ও হাঁস,মুরগি লালন করে না।খামারিরা এসব লালন-পালন করে সংসারের খরচ মিঠানোর জন্য আর পশু ও হাঁস,মুরগি পালন করে,পরিবার বড় বিপদে বিক্রি করে অধিকাংশ সমস্যা সমাধানে সহায়ক হয় বলে।এই বন্যায় ছোট,মাঝারি খামারিরা চরম বিপর্যস্ত।তাদের ঘুরে দাঁড়ানোর সামর্থ্য নেই।
সরেজমিন গেলে বরইতলীর টাইম বাজার এলাকার নুরুল আলম,চিরিংগা সওদাগরঘোনার হাবিব উল্লাহ সহ আরো কয়েকজন খামারি জানান-বন্যার পানি নেমে গেলেও আমাদের খামারের ভগ্নদশা কাটেনি। বন্যার কাঁদা পানিতে খামারে মজুত রাখা খড়, ভুষি ও মুরগির ফিড পচে-গলে নষ্ট হয়ে যায়। বিস্তীর্ণ চারণভূমি এখনো জলমগ্ন থাকায় চরমাকারে পশুখাদ্য সংকট দেখা দিয়েছে।এছাড়াও আমরা যারা খামারি আছি,করি,আমরাতো বিভিন্ন ব্যাংক ঋণদান সংস্হা এবং দাদন নিয়ে খামার করেছি।এখন ঋণের কিস্তি শোধ করা তো দূরের কথা, বেঁচে থাকা গবাদি পশুগুলোকে খাওয়ানোর মতো পরিস্থিতিও সামর্থ্য আমাদের নেই।আমাদের কপালে র্দূচিন্তার বাঁজ পড়েছে।তাই আমাদেরকে যদি সরকার বাহাদুর সহোযোগিতা করেন।তাহলে আমরা ঋণের বোঝা থেকে কিছুটা পরিত্রাণ পাব আর পুণরায় খামার দাঁড় করাতে সহায়ক হবে।
এ বিষয়ে চকরিয়া উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা মোন্তাকিম বিল্লাহ বলেন,জুলাইয়ের আকস্মিক বন্যায় উটজেলাজুড়ে গবাদি পশু ও হাঁস-মুরগি মারা গেছে আর খামারের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।আমরা ক্ষতিগ্রস্ত খামারে চুড়ান্ত তালিকা প্রস্তুত করেছি।উপজেলা প্রশাসনের মাধ্যমে ক্ষতিগ্রস্ত খামারে একটি প্রতিবেদন সংশ্লিষ্ট অধিদপ্তরের পাঠাবো।অনুদান পেলে প্রত্যককে আর্থিক সহযোগিতা করা হবে।
আমার সংবাদের সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
