
জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জন
কক্সবাজারের ব্যবসায়ী ইয়াহিয়ার ৫ বছরের কারাদণ্ড, পরোয়ানা জারি

নিজস্ব প্রতিবেদক:
জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জন ও দখলে রাখার দায়ে কক্সবাজারের আলোচিত ব্যবসায়ী এবং স্থানীয় দৈনিক ‘আজকের দেশ-বিদেশ’ পত্রিকার সম্পাদকমণ্ডলীর চেয়ারম্যান আনিসুর রহমান প্রকাশ ইয়াহিয়াকে পাঁচ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে তাঁকে ১২ কোটি ৫৫ লাখ ১ হাজার ৩৫৩ টাকা জরিমানা করা হয়েছে। জরিমানার অর্থ অনাদায়ে তাঁকে আরও এক বছরের সশ্রম কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে।

রায় ঘোষণার সময় আসামি আদালতে অনুপস্থিত থাকায় তাঁর বিরুদ্ধে সাজামূলে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছেন বিচারক। গত ১৩ অক্টোবর চট্টগ্রামের বিভাগীয় বিশেষ জজ আদালতের বিচারক মিজানুর রহমান এই রায় ঘোষণা করেন। বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) রায়ের লিখিত অনুলিপি হাতে পাওয়ার পর বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া গেছে।
দুদকের পক্ষে মামলা পরিচালনাকারী আইনজীবী রেজাউল করিম খবরের সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, বিপুল পরিমাণ অবৈধ সম্পদের বৈধ উৎস প্রদর্শন করতে না পারায় দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) আইনের ২৭(১) ধারায় আদালত এই দণ্ড প্রদান করেন।
তিনি আরও জানান, মামলা পরিচালনাকালে অনুসন্ধান ও তদন্ত কর্মকর্তা এবং গণপূর্ত বিভাগের প্রকৌশলীসহ মোট ১৩ জন সাক্ষী সাক্ষ্য প্রদান করেন। নথিপত্র ও মূল্যায়নের ভিত্তিতে অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় আদালত এই রায় প্রদান করেন।
দণ্ডপ্রাপ্ত আনিসুর রহমান ইয়াহিয়া কক্সবাজারের সীমান্ত উপজেলা টেকনাফের শাহপরীর দ্বীপ এলাকার মৃত হাজি নবী হোসেনের ছেলে।
মামলার পটভূমি ও সম্পদের হিসাব:মামলার নথি সূত্র জানায়, ২০০৮ সালের ১৯ নভেম্বর চট্টগ্রাম নগরের খুলশী থানায় ইয়াহিয়ার বিরুদ্ধে অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগে মামলা করে দুদক (সমন্বিত জেলা কার্যালয়, চট্টগ্রাম-২)। সংস্থাটির তৎকালীন সহকারী পরিচালক জাহাঙ্গীর আলম বাদী হয়ে মামলাটি দায়ের করেছিলেন।
পরবর্তীতে তদন্ত শেষে ২০০৯ সালের ৫ জুলাই আদালতে অভিযোগপত্র (চার্জশিট) দাখিল করা হয়। ২০০৯ সালের ১৭ আগস্ট আদালত অভিযোগপত্র আমলে নেন এবং ২০১৮ সালের ১৪ মার্চ আসামির বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠন করা হয়।
দুদকের অনুসন্ধান ও গণপূর্ত বিভাগের প্রকৌশলীদের করা মূল্যায়ন প্রতিবেদনে দেখা যায়, চট্টগ্রাম নগরের খুলশী আবাসিক এলাকার ১ নম্বর সড়কে চারতলা বাড়ি (বিনিয়োগ ৩ কোটি ৫৯ লাখ টাকা), ৬ নম্বর সড়কে সাততলা অ্যাপার্টমেন্ট (বিনিয়োগ ৪ কোটি ৬৫ লাখ টাকা) এবং লালখান বাজারের এম এম আলী রোডে দশতলা বাণিজ্যিক ভবনসহ (বিনিয়োগ ৪ কোটি ৯৫ লাখ টাকা) তিনটি স্থাপনায় ইয়াহিয়ার মোট ১৩ কোটি ২০ লাখ ৬ হাজার ৩৫৩ টাকার বিনিয়োগ চিহ্নিত করা হয়।
অথচ ২০০৭-০৮ করবর্ষ পর্যন্ত তাঁর আয়কর নথিতে এ খাতে বিনিয়োগ দেখানো হয়েছিল মাত্র ১ কোটি ৯৩ লাখ ৬৫ হাজার টাকা। ফলে ১১ কোটি ২৬ লাখ ৪১ হাজার ৩৫৩ টাকার বিনিয়োগ গোপন করার তথ্য প্রমাণ পায় দুদক।
এছাড়া দুদকের তালিকায় ঢাকার বারিধারায় ৩৫ লাখ ৮৫ হাজার টাকার ফ্ল্যাট, কক্সবাজার সদরে ১৭ লাখ টাকার দৈনিক ‘আজকের দেশ-বিদেশ’ পত্রিকার কার্যালয় এবং টেকনাফে ১৫ লাখ ২০ হাজার টাকায় ‘নাফ ভিউ ফিলিং স্টেশন’ লিজ নেওয়ার হিসাব উঠে আসে। পাশাপাশি তাঁর নামে একটি বন্দুক (৬৫ হাজার টাকা) ও পিস্তল (১ লাখ টাকা) ক্রয়ের তথ্যও নথিতে যুক্ত করা হয়। এসব সম্পদের বিপরীতে কোনো বৈধ আয়ের উৎস দেখাতে পারেননি তিনি।
এদিকে, রায়ের প্রতিক্রিয়া ও পরবর্তী আইনি পদক্ষেপের বিষয়ে জানতে আনিসুর রহমান ইয়াহিয়ার মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
আমার সংবাদের সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
