
পুলিশ পরিচয়ে ৪০ মিনিটের মধ্যেই সব লুট করে উধাও

কক্সবাজারের পেকুয়া উপজেলায় পুলিশ পরিচয়ে একটি বাড়িতে প্রবেশ করে পরিবারের সদস্যদের অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে ডাকাতির অভিযোগ উঠেছে। ডাকাতরা ১৫ ভরি স্বর্ণালংকার, নগদ ৮ লাখ ৪০ হাজার টাকা, তিনটি মোবাইল ফোন এবং বাড়ির সিসিটিভির হার্ডডিস্ক নিয়ে গেছে বলে দাবি করেছেন ভুক্তভোগীরা।রোববার দিবাগত রাত ১টার দিকে উপজেলার আব্দুল হামিদ সিকদারপাড়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।ভুক্তভোগী রেজাউল করিম, যিনি বর্তমানে মহেশখালীর মাতারবাড়ি ইউনিয়ন পরিষদের সচিব হিসেবে কর্মরত, জানান, রাত ১টার দিকে একটি গাড়ির শব্দ শুনে তিনি বাড়ির বাইরে বের হন। একই সময় আশপাশের আরও কয়েকজনও বাইরে আসেন। এ সময় একটি সাদা রঙের নোহা গাড়ি দ্রুতগতিতে এসে পাশের একটি কবরস্থানের কাছে থামে।তার ভাষ্য, কিছুক্ষণ পর সিভিল পোশাক পরা ছয় ব্যক্তি গাড়ি থেকে নেমে তাদের আলাদা করে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করেন। তারা নিজেদের পুলিশ পরিচয় দিয়ে গভীর রাতে বাইরে থাকার কারণ, পেশাসহ বিভিন্ন বিষয়ে জানতে চরেজাউল করিমের দাবি, একপর্যায়ে ওই ব্যক্তিরা তার সঙ্গে থাকা অন্য তিনজনকে দূরে নিয়ে হাত-পা ও মুখ বেঁধে ফেলেন এবং তাদের কাছ থেকে মোবাইল ফোন ও টাকা ছিনিয়ে নেন। পরে রাত আনুমানিক ৩টার দিকে তাকে সঙ্গে নিয়ে তার বাড়িতে যান।
তিনি বলেন, 'আমি তাদের পুলিশ সদস্য মনে করে বাড়িতে নিয়ে যাই। কিন্তু বাড়ির ফটক দিয়ে ঢোকার সঙ্গে সঙ্গে তারা আমার ঘাড়ে বন্দুক ঠেকিয়ে জিম্মি করে। তাদের সবার হাতে আগ্নেয়াস্ত্র ও ধারালো অস্ত্র ছিল। পরে তারা পরিবারের নারী ও শিশুদেরও জিম্মি করে।'ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, প্রথমে ডাকাতরা রেজাউল করিমের বড় ভাই, প্রবাসী জমির আলমের কক্ষে প্রবেশ করে। সেখানে তার স্ত্রী আমেনা বেগমকে মারধর ও অস্ত্রের ভয় দেখিয়ে পরিহিত স্বর্ণালংকার খুলে নেয়। পরে আলমারির তালা ভেঙে প্রায় সাড়ে ৭ ভরি স্বর্ণালংকার এবং নগদ ২ লাখ ৫০ হাজার টাকা লুট করে।
এরপর তিনজন ডাকাত রেজাউল করিমের কক্ষে প্রবেশ করে তার স্ত্রী তাসফিয়া সুলতানা কাজলকে অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে। আলমারির তালা ভেঙে সাড়ে ৮ ভরি স্বর্ণালংকার ও নগদ ৫ লাখ ৯০ হাজার টাকা নিয়ে যায়। বাধা দিতে গেলে রেজাউল করিমকে মারধর ও অস্ত্রের আঘাত করা হয় বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
ডাকাতরা যাওয়ার আগে বাড়ির সিসিটিভি ক্যামেরার হার্ডডিস্ক খুলে নিয়ে যায়। পাশাপাশি বাড়ির প্রধান দরজা বাইরে থেকে বন্ধ করে পরিবারের সদস্যদের ঘরের ভেতরে আটকে রেখে পালিয়ে যায়।
প্রবাসী জমির আলমের স্ত্রী আমেনা বেগম বলেন, 'তারা নিজেদের পুলিশ পরিচয় দিয়ে বাড়িতে ঢোকে। পরে অস্ত্র ও ছুরি বের করে আমাদের জিম্মি করে। আমাকে মারধর করে পরিহিত সব স্বর্ণালংকার খুলে নেয়। এরপর আলমারি ভেঙে নগদ টাকা ও স্বর্ণালংকার লুট করে। এমনকি আমাদের সন্তানদের জমানো খুচরা টাকার ব্যাংকও নিয়ে যায়।'রেজাউল করিমের স্ত্রী তাসফিয়া সুলতানা কাজল বলেন, 'তারা আমার স্বামীর মাথায় অস্ত্র ঠেকিয়ে জিম্মি করে। পরে আমার কক্ষে ঢুকে আলমারির চাবি খুঁজতে থাকে। আমার স্বামী অনুরোধ করলে তার গলা চেপে ধরে। পরে আলমারি ভেঙে আমার বিয়েতে পাওয়া প্রায় সাড়ে ৮ ভরি স্বর্ণালংকার, নগদ ৫ লাখ ৯০ হাজার টাকা এবং আমার হাতে থাকা মোবাইল ফোন নিয়ে যায়।'
এ বিষয়ে পেকুয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মেহেদী হাসান বলেন, 'ঘটনার খবর পেয়ে পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে।'
আমার সংবাদের সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
