
আসামি ধরায় ব্যস্ত উখিয়া থানা পুলিশ, ইয়াবা দমনে নীরবতা!

নিয়মিত মামলার আসামি, ওয়ারেন্টভুক্ত ও সাজাপ্রাপ্তদের গ্রেপ্তারে উখিয়া থানা পুলিশ বেশ তৎপরতা দেখালেও সীমান্তজুড়ে ইয়াবার জমজমাট কারবার দমনে পুলিশের ভূমিকা নিয়ে চরম প্রশ্ন উঠেছে। রোহিঙ্গা ক্যাম্প অধ্যুষিত উখিয়া উপজেলায় সীমান্ত দিয়ে মাদকের বড় বড় চালান প্রবেশ এবং চালান ছিনতাইকে কেন্দ্র করে সংঘাত লেগেই রয়েছে। একের পর এক অভিযানে লাখ লাখ পিস ইয়াবা উদ্ধার করছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) ও স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি)। তবে এসব চালানের নেপথ্যে থাকা গডফাদার, সরবরাহকারী ও স্থানীয় সহযোগীদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনতে উখিয়া থানা পুলিশের দৃশ্যমান কোনো ভূমিকা না থাকায় ক্ষোভ প্রকাশ করছেন স্থানীয়রা।
উখিয়া থানা পুলিশের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, গত ১৮ অক্টোবর ২৪ ঘণ্টায় বিভিন্ন মামলায় ১১ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়। এর মধ্যে নিয়মিত মামলার চার আসামি, জিআর মামলায় সাজাপ্রাপ্ত দুই আসামি এবং মোবাইল কোর্টে সাজাপ্রাপ্ত পাঁচজন রয়েছেন। পরদিন ১৯ অক্টোবর আরও পাঁচজনকে গ্রেপ্তারের তথ্য জানায় থানা পুলিশ। তাদের মধ্যে নিয়মিত মামলার একজন, ফৌজদারি কার্যবিধির ১৫১ ধারায় একজন এবং পরোয়ানামূলে তিনজন রয়েছেন। দুই দিনে মোট ১৬ জনকে গ্রেপ্তারের তথ্য প্রকাশ করা হলেও পুলিশের এই তালিকায় মাদকবিরোধী কোনো বিশেষ অভিযানের হিসাব চোখে পড়েনি।

অন্যদিকে, গত ১৩ অক্টোবর উখিয়ার পালংখালী ও বালুখালী সীমান্তে পৃথক অভিযানে ২ লাখ ২০ হাজার পিস ইয়াবাসহ তিনজনকে আটক করে ৬৪ বিজিবি। সে সময় একটি বিদেশি পিস্তল, দুটি ম্যাগাজিন, ১১ রাউন্ড গুলি এবং ইয়াবা পাচারে ব্যবহৃত বিশেষ ডুবন্ত কাঠের ক্যারিয়ার, বৈদ্যুতিক মোটর, স্টিলের তার ও পুলি উদ্ধার করা হয়। বিজিবির ভাষ্য অনুযায়ী, নাফ নদীর তলদেশ দিয়ে বিশেষ কৌশলে ইয়াবা পরিবহনে ক্যারিয়ারটি ব্যবহার করছিল কারবারিরা। এই ঘটনায় সীমান্তে মাদক পাচারকারীদের কৌশল ও নেটওয়ার্কের ভয়াবহতা নতুন করে সামনে এলেও মূল হোতাদের গ্রেপ্তারে থানা পুলিশের অগ্রগতি হতাশাজনক।
শুধু পাচারই নয়, ইয়াবার চালান ছিনতাইকে কেন্দ্র করেও উখিয়ায় দফায় দফায় সংঘাতের ঘটনা ঘটছে। গত ১৩ সেপ্টেম্বর রাতে পালংখালী ইউনিয়নের ফারিরবিল মাদ্রাসার সামনে ২০ হাজার পিস ইয়াবার একটি চালান ছিনতাইকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে গোলাগুলির ঘটনা ঘটে। এ ধরনের ঘটনা মাদক কারবারকে ঘিরে সংঘাত ও স্থানীয় নিরাপত্তা ঝুঁকিকে বহুগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে।
সচেতন মহলের মতে, শুধু ইয়াবার চালান ও বাহকদের উদ্ধার করে মাদক কারবারের শিকড় উপড়ে ফেলা সম্ভব নয়। পাচারের উৎস, আন্তর্জাতিক ও স্থানীয় সরবরাহকারী, গডফাদার, অর্থের জোগানদাতা এবং স্থানীয় মদদদাতাদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনা জরুরি।
এ বিষয়ে যোগাযোগ করা হলে কক্সবাজারের পুলিশ সুপার সাজেদুর রহমান জানান, বিষয়টি তিনি গুরুত্বের সঙ্গে খতিয়ে দেখবেন।
উখিয়ার স্থানীয় বাসিন্দারা মনে করছেন, কেবল পরোয়ানাভুক্ত ও ছোটখাটো আসামি গ্রেপ্তারের মধ্যে সীমাবদ্ধ না থেকে, মাদক কারবারের মূল চক্রের বিরুদ্ধে থানা পুলিশের ধারাবাহিক ও দৃশ্যমান অভিযানই পারে এ অঞ্চলে ইয়াবার ভয়াবহ বিস্তার রোধ করতে।
আমার সংবাদের সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
