
ঈদগাঁও ইসলামাবাদ ইউনিয়নের টেকপাড়ায় ২৪ ঘণ্টার ব্যবধানে ফের একই রাতে দুই বসতবাড়িতে সশস্ত্র ডাকাতি, কোটি টাকার মালামাল লুট

আজিজুর রহমান রাজু, ঈদগাঁও
--------------------------------
কক্সবাজারের ঈদগাঁও উপজেলায় ২৪ ঘণ্টার ব্যবধানে ফের একই রাতে পৃথক দুটি বসতবাড়িতে সংঘবদ্ধ সশস্ত্র ডাকাতির ঘটনা ঘটেছে। ভুক্তভোগীদের দাবি, ডাকাতরা নগদ টাকা, স্বর্ণালঙ্কার, মোবাইল ফোনসহ বিপুল পরিমাণ মূল্যবান মালামাল লুট করেছে। তাদের হিসাব অনুযায়ী, দুই পরিবারের মোট ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ প্রায় এক কোটি টাকা। ডাকাতদের হামলায় কয়েকজন আহত হয়েছেন বলেও জানা গেছে।
বুধবার দিবাগত গভীর রাতে উপজেলার ইসলামাবাদ ইউনিয়নের টেকপাড়া এবং পোকখালী ইউনিয়নের মালমুরাপাড়া এলাকায় এ দুটি ডাকাতির ঘটনা ঘটে।
উপজেলার ইসলামাবাদ ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের টেকপাড়ার বাসিন্দা ও সাবেক ইউপি সদস্য নুরুচ্ছফা জানান, ঘটনার সময় তিনি চিংড়িঘেরে থাকায় বাড়িতে ছিলেন না। এ সুযোগে রাত আনুমানিক ৩টার দিকে একদল সশস্ত্র ডাকাত লোহার গ্রিল কেটে ঘরে প্রবেশ করে। পরে তার স্ত্রী আমেনা বেগম (৫০) ও এক শিশু নাতিকে মারধর করে অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে ঘরে তল্লাশি চালায়।
ভোক্তভোগী পরিবারের দাবি, ডাকাতরা ঘর থেকে নগদ ২১ লাখ টাকা, সংরক্ষিত ও পরিবারের নারীদের পরনে থাকা প্রায় ৫০ ভরি স্বর্ণালঙ্কার এবং চারটি অ্যান্ড্রয়েড মোবাইল ফোন লুট করে নিয়ে যায়। যাওয়ার আগে ঘরের আসবাবপত্রও ভাঙচুর করে। মোটরসাইকেলে এসে ডাকাতি শেষে তারা দ্রুত ঘটনাস্থল ত্যাগ করে। তার ভাষ্য, এ ঘটনায় প্রায় কোটি টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।
একই রাতে প্রায় একই কৌশলে পোকখালী ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের পশ্চিম পোকখালীর মালমুরাপাড়ার বাসিন্দা মো. হোছন (প্রকাশ দাড়ি হোছন) এর বাড়িতেও ডাকাতির ঘটনা ঘটে। পরিবারের সদস্যরা জানান, ডাকাতরা গ্রিল কেটে ঘরে প্রবেশ করে নুর মোহাম্মদের স্ত্রীর ১৬ ভরি স্বর্ণালঙ্কার, নগদ ৩ লাখ ৫০ হাজার টাকা, তিনটি অ্যান্ড্রয়েড মোবাইল ফোন এবং ৮০ লাখ টাকার একটি চেক নিয়ে যায়। যদিও ওই চেকের অর্থ উত্তোলন সম্ভব হয়নি, তবুও স্বর্ণালঙ্কার, নগদ অর্থ ও অন্যান্য মালামাল মিলিয়ে প্রায় ৫০ লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে দাবি করেছেন তারা। ডাকাতরা ঘরের বিভিন্ন মূল্যবান জিনিসপত্রও ভাঙচুর করে এবং মোটরসাইকেলে করে পালিয়ে যায়।
ঘটনার খবর পেয়ে বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) ভোরে ঈদগাঁও থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) এটিএম সিফাতুল মাজদারের নেতৃত্বে পুলিশ পৃথক দুটি ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে। ওসি এটিএম সিফাতুল মাজদার জানান, ডাকাতির দুটি ঘটনায় ঘটনাস্থল থেকে প্রয়োজনীয় আলামত সংগ্রহ করা হয়েছে। সংঘবদ্ধ ডাকাত চক্রকে শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
এদিকে, গত এক সপ্তাহে ঈদগাঁও উপজেলায় পাঁচটি দুর্ধর্ষ ডাকাতির ঘটনা ঘটেছে বলে স্থানীয়রা অভিযোগ করেছেন। এর মধ্যে সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টার ব্যবধানে চারটি ডাকাতির ঘটনা ঘটে, যার তিনটিই বসতবাড়িতে সংঘটিত হয়েছে।
এর আগে মঙ্গলবার রাতে ঈদগাঁও-ঈদগড় সড়কের হিমছড়ি ডালা এলাকায় গাছ ফেলে সড়ক অবরোধ করে ছাত্রদল নেতা নাজির শাহকে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে আহত করে এবং ঈদগড় ইউনিয়নের উদ্যোক্তা মোহাম্মদ মুর্শেদকে অপহরণের চেষ্টা চালায় সংঘবদ্ধ ডাকাতদল। একই রাতে ঈদগাঁও পৌরসভার ৭ নম্বর ওয়ার্ডের শিয়াপাড়া এলাকায় এক ব্যবসায়ীকে অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে প্রায় দেড় লাখ টাকা লুট করা হয়। ওই ঘটনায় দ্রুত অভিযান চালিয়ে দুইজনকে গ্রেপ্তার করে ঈদগাঁও থানা পুলিশ।
স্থানীয়দের অভিযোগ, অধিকাংশ ডাকাতির ঘটনায় একই কৌশল অনুসরণ করা হচ্ছে। ডাকাতরা মোটরসাইকেলে এসে লোহার গ্রিল কেটে ঘরে প্রবেশ করছে এবং অল্প সময়ের মধ্যে নির্বিঘ্নে পালিয়ে যাচ্ছে। একের পর এক এমন ঘটনায় সাধারণ মানুষের মধ্যে চরম আতঙ্ক বিরাজ করছে। তারা সংঘবদ্ধ ডাকাত চক্রকে দ্রুত গ্রেপ্তার, রাতের টহল জোরদার এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির কার্যকর উন্নয়নে প্রশাসনের জরুরি পদক্ষেপ দাবি করেছেন।
আমার সংবাদের সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
