
উখিয়া ভূমি অফিসে নাজির আলমগীরের 'রাজত্ব': সেবাপ্রার্থীদের ভোগান্তি ও ক্ষোভ

ভূমি অফিস কি জনগণের সেবাকেন্দ্র, নাকি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের প্রভাব বিস্তার ও অনৈতিক সুবিধা আদায়ের দপ্তরে পরিণত হয়েছে?—কক্সবাজারের উখিয়া উপজেলা ভূমি অফিসের নাজির কাম ক্যাশিয়ার মোঃ আলমগীরকে ঘিরে ওঠা একাধিক অভিযোগে এখন এই প্রশ্নই জোরালো হয়ে উঠেছে।
গত ২৮ এপ্রিল উখিয়া ভূমি অফিসে যোগদানের পর থেকেই তাঁর বিরুদ্ধে অনিয়ম, দুর্নীতি, ঘুষ দাবি এবং নিজেকে দপ্তরের ‘হর্তাকর্তা’ মনে করে চলার অভিযোগ তুলেছেন ভুক্তভোগীরা। এর আগে কক্সবাজার সদর উপজেলা ভূমি অফিসে কর্মরত থাকাকালে অসাধু উপায়ে অর্থ লেনদেনের কারণে তিনি ‘ভেন্ডার আলমগীর’ হিসেবে পরিচিতি পান বলে জানা গেছে।

স্থানীয় সেবাগ্রহীতাদের অভিযোগ, নামজারি, খতিয়ান কিংবা জমি-সংক্রান্ত বিভিন্ন দাপ্তরিক কাজে নাজির আলমগীরের ব্যক্তিগত প্রভাব ও মধ্যস্থতা ছাড়া সেবা মেলা দায়। নির্ধারিত ফি-র বাইরে অতিরিক্ত অর্থ বা ‘নজরানা’ না দিলে ফাইল আটকে রাখা কিংবা অনাহেতু হয়রানির শিকার হতে হয়। সরকারি সেবার নিয়ম অনুযায়ী ভূমিসেবা পাওয়ার কথা থাকলেও গ্রাহকদের ব্যক্তিগত দাপট ও অনৈতিক আর্থিক দাবির মুখে পড়তে হচ্ছে।
কক্সবাজার জজ কোর্টের সুপরিচিত আইনজীবী অ্যাডভোকেট জসিম আজাদ এ বিষয়ে বলেন, “ভূমি অফিসে সেবা নিতে গিয়ে অতিরিক্ত অর্থ দাবির অভিযোগ নতুন নয়। কাজের জটিলতা বা ফাইল আটকে যাওয়ার আশঙ্কায় অনেক সেবাপ্রার্থীই প্রকাশ্যে বা লিখিত অভিযোগ করতে সাহসের অভাব বোধ করেন। বাধ্য হয়ে অনেকে অতিরিক্ত অর্থ দিয়ে কাজ শেষ করেন।”
সরকারি বিধিমালা অনুযায়ী একজন নাজির কাম ক্যাশিয়ারের দায়িত্ব ও ক্ষমতার নির্দিষ্ট সীমা রয়েছে। কিন্তু উখিয়া ভূমি অফিসে সেবাপ্রক্রিয়ায় আলমগীরের কর্তৃত্ব নিয়ে জনমনে তীব্র অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। ভূমির মালিকানা ও রেকর্ডসংক্রান্ত কাজ আইন ও নথিপত্রের ভিত্তিতে পরিচালিত হওয়ার কথা থাকলেও, ব্যক্তির ব্যক্তিগত ইচ্ছে ও আর্থিক লেনদেনের কারণে তা প্রভাবিত হওয়ার অভিযোগ উঠেছে।
সচেতন মহলের মতে, সরকারি দপ্তরের পদ-পদবি সেবামূলক দায়িত্ব পালনের জন্য, ব্যক্তিগত প্রভাব বিস্তারের জন্য নয়। এ ধরনের ঘটনা নিছক দাপ্তরিক অনিয়ম নয়; বরং তা সরকারি সেবার স্বচ্ছতা, নিরপেক্ষতা ও জবাবদিহির ওপর গুরুতর আঘাত হানছে।
অভিযোগগুলোর বিষয়ে অভিযুক্ত নাজির কাম ক্যাশিয়ার মোঃ আলমগীরের বক্তব্য নেওয়ার জন্য তাঁর মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ না করায় তাঁর কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।
অন্যদিকে, উখিয়া ভূমি অফিসের দায়িত্বশীল প্রশাসনিক কর্মকর্তারা এসব অভিযোগ সম্পর্কে অবগত আছেন কি না কিংবা কোনো তদন্ত কার্যক্রম শুরু করেছেন কি না—তা এখনো স্পষ্ট নয়। স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, কোনো প্রথাগত অস্বীকার বা দায় এড়ানোর বক্তব্য নয়, বরং নিরপেক্ষ ও প্রমাণভিত্তিক তদন্তের মাধ্যমে মূল ঘটনা উদঘাটন করতে হবে।
ভূমি অফিসের স্বাভাবিক সেবাপ্রক্রিয়া ফিরিয়ে আনতে এবং জনমনে আস্থা ফেরাতে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ কাম্য। উখিয়া ভূমি অফিস আইন ও বিধিবিধানের ভিত্তিতে পরিচালিত হবে, নাকি জবাবদিহিহীনতার সুযোগে অনিয়মই নিয়ম হয়ে দাঁড়াবে—এখন সে দিকেই তাকিয়ে আছেন ভুক্তভোগী সাধারণ মানুষ।
আমার সংবাদের সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
