
জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর কক্সবাজার
দেড়শ কোটি টাকার প্রকল্পে সুফল পাচ্ছেনা পৌরবাসী

- সুপেয় পানির সংকট
- গত জুন মাসে পানি সরবরাহ কথা ছিল
- হাজারো অকেজো নলকূপ
বিশেষ প্রতিবেদক:

পৌরসভার লাইনের পানি আসছে না। কিন্তু বিল ঠিকই আসছে। গত ৪ বছর ধরে পানি সংকট তীব্র হচ্ছে। পৌর এলাকার টেকপাড়া, দক্ষিণ রুমালিয়ারছড়া, তারাবনিয়ারছড়া, চাউল বাজার, নুর পাড়া, কৃষি অফিস রোড় এলাকা থেকে শুরু করে পেশকার পাড়া সহ ৩ ও ৪ নং ওয়ার্ডের বেশ কিছু এলাকার বাসিন্দারা তীব্র পানি সংকটে পড়েছে। তবে ঠিকই পৌরসভার পানির বিল পরিশোধ করতে হচ্ছে। পানি না পেয়ে চরম অসুবিধায় পড়েছে পৌরসভার ১০২৫ জন গ্রাহক। আজ কাল করে লাইন ঠিক করার কথা বললেও পানির দূর্ভোগ কমছে না কিছুতেই।
কক্সবাজারের দেড়শ কোটি টাকা ব্যয়ে পানি শোধনাগার নিয়ে বিগত দিনে নয়ছয় হলেও গত জানুয়ারী মাসে আশার বাণী শুনিয়েছিলেন প্রকল্প পরিচালক গোলাম মুক্তাদির । গত বছরের জুন মাসের মধ্যে পানির লাইন ঘরে ঘরে পৌছে দেওয়ার কথা থাকলেও এখনো কোন কাজের অগ্রগতি নেই। প্রথমে হোটেল মোটেল জোনকে প্রাধান্য দিয়ে তাদের পানির লাইন ক্লিয়ার করে এর পর কক্সবাজার পৌরসভার প্রতিটি ওয়ার্ড়ে কাজ শেষ করার কথা বলেছিলেন । কিন্তু এখনো তাও কাজ শেষ করতে পারেননি পুরোপুরি। সবমিলিয়ে গত বছরের জুনের মধ্যে কক্সবাজারবাসি সুপেয় পানির লাইন প্রতিটি ঘরে পৌছে যাবে এমনটা জানিয়েছিল সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। পানির দাম নির্ধারণও করা হয়েছে বলে জানা গেছে । ঘরের জন্য এক হাজার লিটার এর দাম নির্ধারণ করা হয়েছিল ২০ টাকা আর হোটেল মোটেল জোনে বানিজ্যিক ভাবে যারা ব্যবহার করবে তাদের জন্য প্রতি ১হাজার লিটার এর মুল্য ৪০ টাকা পর্যন্ত হতে পারে। এদিকে শুরুতে এই প্রকল্প নিয়ে জমি অধিগ্রহণ নিয়ে বেশ তুলকালাম কান্ড হলেও বর্তমানে আলোর মুখ দেখলেও প্রকল্পটি শেষ করতে পারছে না সংশ্লিষ্ট দপ্তর।গত জুন মাসের মধ্যে এই প্রকল্পের সুবিধা পাবে পর্যটন নগরীর হাজারো মানুষ এমনটা কথা ছিল কিন্তু কয়র শেষের দিকে এলেও এখনো কোন ধরণের কাজ শেষ করতে পারেনি।
কক্সবাজারের পানি সংকট দূর করতে সুপেয় পানি সংকট দূর করতে কক্সবাজার শহরে ভূ-উপরিস্থ পানি শোধনাগার প্রকল্প হাতে নেয় সরকার। এশিয়ান ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক (এডিবি) এবং বাংলাদেশ সরকারের অর্থায়নে প্রায় দেড়শ কোটি টাকা ব্যয়ে প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করছে জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর। সদর উপজেলার ঝিলংজা মৌজায় ২.১৭৫০ একর জমি অধিহণ করে ২০২৪ সালে শোধনাগার নির্মাণ শেষ করার কথা ছিল। শহরের গোলদিঘিপাড় এলাকায় পাহাড়ে একটি মাদার ট্যাঙ্কসহ বীরশ্রেষ্ঠ রুহুল আমিন স্টেডিয়ামসংলগ্ন এলাকা, দক্ষিণ রুমালিয়ারছড়া, সৈকতের সুগন্ধা পয়েন্ট এবং বাস টার্মিনাল এলাকায় তৈরি করা হয়েছে পাঁচটি ওভার ট্যাঙ্ক বা উচ্চ জলাধার। এখনও বসতবাড়ির সরবরাহ লাইনের কাজ শুরু করা হয়নি তবে জুন মাসের মধ্যে কাজ শেষ করার কথা জানিয়েছেন কর্তৃপক্ষ।
২০২৩ সালের জুনে প্রকল্পের পূর্ণ মেয়াদ শেষ হওয়ার কথা ছিল। ২০২৪ সালের জুন পযর্ন্ত সময় বাড়ানো হয়। তারপরও সরবরাহ লাইনের কাজ শেষ না হওয়ায় দ্বিতীয় বারের মতো ২০২৫ সালের জুন মাস পর্যন্ত বাড়ানো হয় মেয়াদ।
প্রকল্প-সংশ্লিষ্টরা জানান, প্রতি ঘণ্টায় ১০ লাখ লিটার (এক হাজার মিটার কিউব) পানি পরিশোধন করা হবে শোধনাগারে। সেখান থেকে পৌরসভার ১ লাখ ২০ হাজার মানুষকে পানি সরবরাহ করা হবে। সরবরাহ লাইন না বসানোয় এখনও শোধনাগারটি চালু করা যায়নি।
এদিকে তাপমাত্রা বৃদ্ধি পাওয়ার কারণে পর্যটন নগরী কক্সবাজারে পানির তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। অস্বাভাবিকভাবে নিচে নেমে গেছে ভূগর্ভস্থ পানির স্তর। জেলা শহরসহ উপজেলার ২ ইউনিয়নের সিংহভাগ এলাকাতেই ক্রমে নামছে ভূগর্ভস্থ পানির স্তর। বিশেষ করে কক্সবাজার শহর পার্শ্ববর্তী অঞ্চল ও উখিয়া টেকনাফের অবস্থা খুবই ভয়াবহ। জেলার সরকারি প্রায় ৩১ হাজার নলকুপের মধ্যে প্রায় ৭ হাজার অকেজো হয়ে পড়েছে বলে জানা গেছে। পানি উঠছে না আরো অন্তত কয়েক হাজার নলকূপে। উপকূল-সমতল, উঁচু নিচু পাহাড়ি জনপদ সংকট একই ধরনের। ভোগান্তি বেড়েছে উখিয়া-টেকনাফের আশ্রয় ক্যাম্পেও।
কক্সবাজার শহর ও সমুদ্রতীরবর্তী বিস্তীর্ণ এলাকায় ভূগর্ভস্থ পানির স্তর দ্রুত নামছে। ইতোমধ্যে শহরের সাগরতীরবর্তী এলাকার হাজার হাজার অগভীর নলকূপ বিকল হয়ে গেছে। কিছু এলাকার গভীর-অগভীর নলকুপগুলো থেকে উঠে আসছে পানের অযোগ্য লবণাক্ত পানি। ফলে গুরুতর পানি সংকটে পড়েছেন শহরের ৫ লক্ষাধিক বাসিন্দা। সংকট নিরসনে প্রায় দেড়শ কোটি টাকা ব্যয়ে শহরের ঝিলংজা মৌজায় ২০২০ সালে 'ভু-উপরিস্থ পানি শোধনাগার' নির্মাণ প্রকল্পের কাজ শুরু করে সরকার। দুই দফা প্রকল্পের সময় বাড়িয়ে ২০২৪ সালে শোধনাগারের নির্মাণকাজ শেষ করার কথা থাকলেও আবারো মেয়াদ বাড়িয়ে এই বছরের জুন মাস পর্যন্ত করা হয়েছে। এদিকে জুনের মধ্যে সব কাজ শেষ করতে না পারলে ডিসেম্বর পর্যন্ত মেয়াদ বাড়ানোর সম্ভাবনা রয়েছে বলে জানা গেছে সংশ্লিষ্ট অফিস থেকে। প্রথমে প্রতিটি ঘরের পানির লাইন পৌরসভার করার কথা থাকলেও পরবর্তীতে প্রকল্প অধিনে করতে অফিসিয়াল নানান জটিলতার কারণে শুরু হয়নি বসতবাড়ির সরবরাহ লাইন স্থাপনের কাজও। তবে শীগ্রই লাইনের কাজ শেষ করবে বলে জািেনয়ছেন প্রকল্প কর্মকর্তা । এদিকে দেরি হওয়ার কারণে প্রকল্পের সুবিধা পাওয়া নিয়ে অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে বলে মনে করছে স্থানীয়রা।
কক্সবাজারের পানি সংকট দূর করতে সুপেয় পানি সংকট দূর করতে কক্সবাজার শহরে ভূ-উপরিস্থ পানি শোধনাগার প্রকল্প হাতে নেয় সরকার। এশিয়ান ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক (এডিবি) এবং বাংলাদেশ সরকারের অর্থায়নে প্রায় দেড়শ কোটি টাকা ব্যয়ে প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করছে জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর। সদর উপজেলার ঝিলংজা মৌজায় ২.১৭৫০ একর জমি অধিহণ করে ২০২৪ সালে শোধনাগার নির্মাণ শেষ করার কথা ছিল। শহরের গোলদিঘিপাড় এলাকায় পাহাড়ে একটি মাদার ট্যাঙ্কসহ বীরশ্রেষ্ঠ রুহুল আমিন স্টেডিয়ামসংলগ্ন এলাকা, দক্ষিণ রুমালিয়ারছড়া, সৈকতের সুগন্ধা পয়েন্ট এবং বাস টার্মিনাল এলাকায় তৈরি করা হয়েছে পাঁচটি ওভার ট্যাঙ্ক বা উচ্চ জলাধার। এখনও বসতবাড়ির সরবরাহ লাইনের কাজ শুরু করা হয়নি তবে গত বছরের জুন মাসের মধ্যে কাজ শেষ করার কথা জানিয়েছিল কর্তৃপক্ষ।
২০২৩ সালের জুনে প্রকল্পের পূর্ণ মেয়াদ শেষ হওয়ার কথা ছিল। ২০২৪ সালের জুন পযর্ন্ত সময় বাড়ানো হয়। তারপরও সরবরাহ লাইনের কাজ শেষ না হওয়ায় দ্বিতীয় বারের মতো ২০২৫ সালের জুন মাস পর্যন্ত বাড়ানো হয় মেয়াদ । কিন্তু এখনো শেষ করতে পারেনি শেষ করতে ।
প্রকল্প-সংশ্লিষ্টরা জানান, প্রতি ঘণ্টায় ১০ লাখ লিটার (এক হাজার মিটার কিউব) পানি পরিশোধন করা হবে শোধনাগারে। সেখান থেকে পৌরসভার ১ লাখ ২০ হাজার মানুষকে পানি সরবরাহ করা হবে। সরবরাহ লাইন না বসানোয় এখনও শোধনাগারটি চালু করা যায়নি।
জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর কক্সবাজারের নির্বাহী প্রকৌশলী নাসরুল্লাহ খান জানান, পানি শোধনাগার প্রকল্পের কাজ প্রায় শেষ। এখন পৌরসভার মাধ্যমে আবেদন সংগ্রহ করা হচ্ছে যারা আবেদন করছে তাদেও লাইন প্রদান করা হচ্ছে।
প্রকল্প পরিচালক গোলাম মুক্তাদির জানান কিছুদিন আগে জানান, আমরা যখন প্রকল্পটি হাতে নিই। তখন হাউসহোল্ড কানেকশন ধরাই ছিল না। কারণ হাউসহোল্ড কানেকশনটা পৌরসভা দেওয়ার কথা ছিল। পরে পৌরসভা অপারগতা প্রকাশ করলে কাজটা পিছিয়ে যায়। এখন এ প্যাকেজটি নতুন করে প্রকল্পের ভেতরে আনা হয়েছে। যদিও দেরি হয়েছে, তারপরও প্রকল্পটি রিভিশন করে হাউস কানেকশন ইনক্লুড করে মন্ত্রণালয় থেকে পাস করিয়ে পরিকল্পনা কমিশনে গেছে। এখন কাজ শেষ কিছু জায়গায় সংযোগ প্রদান করা হয়েছে।
এদিকে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, কক্সবাজার শহরে পাঁচ শতাধিক হোটেল-গেস্ট হাউসে অপরি-কল্পিত গভীর নলকূপে পানি উত্তোলন বাড়ছে। পাশাপাশি ২০১৭ সালের আগস্ট মাসের শেষের দিকে রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশের পর ভূগর্ভস্থ অতিরিক্ত পানি উত্তোলনও বেড়েছে। এতে কক্সবাজারে দিন দিন পানির স্তর নিচে নামছে। বিশেষ করে শুষ্ক মৌসুমে সুপেয় পানি সংকটের পাশাপাশি পানিতে বাড়ছে লবণাক্ততার মাত্রাও।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, কক্সবাজার শহরে প্রায় ৩ হাজার গভীর নলকূপ ও ৩০ হাজার অগভীর নলকূপ দিয়ে দৈনিক ৩ কোটি লিটার পানি তোলা হচ্ছে। শহরের ২ লাখ বাসিন্দা ছাড়াও প্রায় এক লাখ পর্যটকের চাহিদা মেটায় এ নলকূপগুলো। নলকূপ-গুলোতে বর্ষাকালে অর্থাৎ মে মাসের শেষ দিক থেকে নভেম্বরের প্রথমার্ধ পর্যন্ত স্বাভাবিক পানি থাকলেও বাকি সময় বিপত্তি ঘটে। এ সময় নলকূপ থেকে উচ্চমাত্রায় লবণাক্ত পানি উঠে আসে অথবা নলকূপ বিকল হয়ে যায়।
এদিকে কক্সবাজার শহর ছাড়াও টেকনাফের রোহিঙ্গা শিবিরগুলোতে পানির সংকট তীব্র আকার ধারণ করেছে। প্রতিদিন রোহিঙ্গারা জনপ্রতি ১০ লিটার করে পানি পাচ্ছেন। এই পরিমাণ পানি জীবনধারণের প্রয়োজনের অর্ধেক। মেডিসিন্স স্যান্স ফ্রন্টিয়ার্স (এমএসএফ) বা সীমান্তবিহীন চিকিৎসক দল বলেছে, পানি সংকটের কারণে রোহিঙ্গাদের স্বাস্থ্য ও সুরক্ষা হুমকির মুখে পড়েছে। এমএ-সএফ জরুরি ভিত্তিতে সংকট নিরসনে পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে।
জানা গেছে, কক্সবাজারের বিভিন্ন এলাকায় সাধারণত মাটির নিচে ৩০-৩৫ ফুট গভীরে পানির স্তর স্বাভাবিক থাকে। কিন্তু কিছু এলাকায় পানির স্তর ৯০ থেকে ১৬০ ফুটে নেমে গেছে। দীর্ঘদিন বৃষ্টি না হলে ওইসব এলাকায় পানির প্রাকৃতিক উৎসগুলোও ক্রমেই শূন্য হয়ে পড়ে। এতে গৃহস্থালি কাজে অচলাবস্থা দেখা দেয়। বোরো মৌসুমে পানির সংকটের আশঙ্কা থাকেন কৃষকেরা। ভুক্তভোগীরা জানান, গ্রীষ্মে এবার পানির সংকট দেখা দিয়েছে। অধিকাংশ টিউবওয়েল থেকে পানি উঠছে না। শহরে পানি কিনে পানের সুযোগ থাকলেও গ্রামে সুপেয় পানির জন্য নলকূপই ভরসা। গ্রামের অনেকেই পানযোগ্য এক কলসি পানি আনতে অনেকদূর যেতে হচ্ছে। তারপরই মিলছে পানি। আর যারা দীর্ঘ এই পথ পাড়ি দিতে পারছেন না, তাদের টাকার বিনিময়ে কিনতে হচ্ছে খাওয়ার পানি।
কক্সবাজার পৌরসভা ও জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল বিভাগের মতে, কক্সবাজার শহরের বিভিন্ন এলাকায় অসংখ্য অগভীর নলকূপ অকেজো হয়ে পড়েছে। কক্সবাজারে ভূগর্ভস্থ পানির স্তর প্রতি বছর ১০ থেকে ১১ ফুট হারে নিচে নামছে। ১০ বছর আগেও শহরের টেকপাড়ায় ১২০ থেকে ১৫০ ফুটের মধ্যে ভূগর্ভস্থ পানির স্তর পাওয়া যেত। অথচ এখন পানির জন্য যেতে হয় ৩০০ থেকে ৫০০ ফুটের বেশি গভীরে। গত কয়েক বছরে কক্সবাজার সাগরপাড়ের কলাতলী এলাকায় ভূগর্ভস্থ পানির স্তর ১০ থেকে ১৫ ফুট নিচে নেমেছে। ফলে অকেজো হয়েছে সাগরপাড়ের তিন শতাধিক আবাসিক হোটেলের অসংখ্য পানির পাম্প। ভূগর্ভস্থ পানির অতিরিক্ত ব্যবহারের কারণে এমন অবস্থা বলে মনে করছে কক্সবাজার পরিবেশ অধিদপ্তর।
কলেজগেট, পালাকাটা, নতুনমহাল, পোকখালী, গোমাতলী, জালালাবাদ, ইসলামপুর, ইসলামাবাদসহ টেকনাফ, উখিয়া, পেকুয়া, চকরিয়া, মহেশখালী, রামু ও কুতুবদিয়ার বিভিন্ন এলাকায়।
জানা গেছে, কক্সবাজার পৌরসভা থেকে পানি সরবরাহ নেয় ১০২৫ পরিবার। তাদের মধ্যে অর্ধেকের বেশি শুধু মাত্র পৌরসভার লাইনের পানির উপর নির্ভরশীল। সর্বশেষ ২০১৫ সালের পরে কক্সবাজার পৌর এলাকাতে নতুন করে উৎপাদক নলকূপ আর স্থাপন করা হয়নি। তখন দায়িত্বশীল মেয়র সরওয়ার কামাল পৌর এলাকা জুড়ে ৬ টি গভীর উৎপাদক নলকূপ স্থাপন করিয়েছিলেন। এর পরে পৌরসভার জনসংখ্যা কয়েকগুন বাড়লেও বাড়েনি উৎপাদন নলকূপের সংখ্যা। বরং ১০ টি নূলকুপের মধ্যে ২ টি নষ্ট হয়ে পড়ে আছে দীর্ঘদিন। বাকি ৮ টি উৎপাদক নলকুপ থেকে পানি উঠলেও তা পরিমানে কমে আসছে।
কক্সবাজারে বাসা-বাড়ি, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান, রেস্টুরেন্ট ও হোটেলে-মোটেলে বেড়েই চলেছে পরিশোধিত পানির চাহিদা। ব্যবহারের পানিও কোথাও লবণাক্ত হয়ে গেছে, কোথাও আবার আয়রনের সমস্যা। সুপেয় পানির সংকট দিন-দিন তীব্র হওয়ায় বাসা-বাড়িতে খাবার পানি কিনে খেতে হচ্ছে।
জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর সুত্রে জানা যায়, কক্সবাজার পৌর এলাকায় ভূগর্ভস্থ সুপেয় পানির স্তর প্রতি বছর গড়ে ৬ থেকে ১৪ ফুট পর্যন্ত নিচে নেমে যাচ্ছে। শহরের ঘনবসতিপূর্ণ এলাকায় এখন ৯০ থেকে ১১০ ফুট গভীরে গিয়ে স্বাদু পানি পাওয়া যাচ্ছে, যা এক দশক আগেও ছিল অনেক কম গভীরে। এরও আগে সুপেয় পানির কোন সংকট ছিল না। অনিয়ন্ত্রিত পানি উত্তোলন, অপরিকল্পিত নগরায়ণ এর ফলে সুপেয় পানির এ সংকট তৈরি হচ্ছে। এছাড়া শহরের কিছুকিছু এলাকায় ৪০০ ফুটের অধিক গভীরে গিয়েও সুপেয় পানি পাওয়া যাচ্ছে না।
এদিকে পানি সংকটের কারণে অনেকেই একই স্থানে দীর্ঘদিন থাকছেন না। বারবার বাসা পরিবর্তন করতে হচ্ছে। বাসা নেওয়ার আগেই বাসার মালিকের কাছে জানতে চান পানির কোন সমস্যা আছে কিনা।
গাড়ির মাঠে বসবাসরত নুরুল আবচার বলেন, 'খাওয়ার পানি কিনে খেতে হয়। এছাড়া বাসায় ব্যবহারের পানি দিয়ে গোসল করলে শরীরে নানা সমস্যার সৃষ্টি হয়। গত দুই বছরে ৩ বার বাসা পরিবর্তন করেছি। এটি বড় সসম্যা। এই সমস্যা সমাধানের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি দেওয়া দরকার।'
কক্সবাজারে সুপেয় পানির সংকট তীব্র হওয়ায় শহরে গড়ে উঠেছে পানি ওয়াটার ট্রিটমেন্ট প্লান্ট। ওখানে পরিশোধিত পানি পর্যটন এলাকাসহ সর্বত্র পানির চাহিদা মেঠাচ্ছে। পৌরসভা কর্তৃক সরবরাহকৃত পানিতে ময়লা থাকায় মানুষ খাওয়ার পানির চাহিদা মিঠাচ্ছে পরিশোধবিত পানি দিয়ে। এছাড়াও বিভিন্ন ব্রান্ডের বোতলজাত পানির চাহিদাও ব্যাপক।
বোতলজাত পানি সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান জাহাঙ্গীর এন্টারপ্রাইজের মালিক জাহাঙ্গীর আলম জানিয়েছেন, প্রতিদিন হোটেল-মোটেল জোনের একটি অংশে প্রায় ৮০-৯০ হাজার টাকার পানি সরবরাহ করতে হয়। পর্যটন মৌসুমে সেই চাহিদা বাড়ে আরো ৪/৫ গুণ।
কক্সবাজার পৌরসভার সহকারী প্রকৌশলী রুবেল বড়ুয়া বলেন, '১৪/১৫ বছর আগে যখন পৌরসভায় নয়টি পাম্প হাউস স্থাপন করা হয়, তখন ১৫০ থেকে ২০০ ফুট গভীরেই পানি পাওয়া যেত। এখন ১ হাজার ২০০ থেকে ১ হাজার ৫০০ ফুট গভীরেও সুপেয় পানি পাওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে। পাওয়া গেলেও তা মানসম্মত নয়। মূলত রোহিঙ্গা আসার পর থেকেই পানির চাহিদা আরো বেড়ে গেছে। কক্সবাজার শহর থেকেও প্রথম দিকে পানি সরবরাহ করা হয়েছে রোহিঙ্গা ক্যাম্পে।
এদিকে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক পৌরসভার এক সিনিয়র কর্মকর্তা জানান, পৌরসভায় সাবেক মেয়র ও বর্তমান সময়ে পানি শাখায় দায়িত্বশীল প্রকৌশলীরা নামে বেনামে বিল বানিয়ে লাখ লাখ টাকা আত্মসাৎ করেছে,কাজের কাজ কিছুই করেনি। পানির মটর গুলো মেরামতের নামে দামী যন্ত্রাংশ কাগজে কলমে কিনলেও বাস্তবে তা ছিল খুবই নিম্নমানের। কিন্ত বিল করে ঠিকই সব টাকা ভাগাভাগি করেছে। বর্তমানে দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রকৌশলী রুমেল বড়ুয়া শুধু বিল ভাউচার করে কি পরিমান টাকা মেরে দিয়েছে তার তথ্য প্রমান থাকলে কেউ কোন ব্যবস্থা নেয়নি বরং তাকে পুরুস্কৃত করা হচ্ছে।
কক্সবাজার পৌরসভার সাবেক মেয়র সরওয়ার কামাল বলেন, পৌর এলাকা জুড়ে পানির তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। নাগরিকরা কষ্ট পাচ্ছে,অথচ বর্তমান পৌর কর্তৃপক্ষ সে সব বিষয়ে নজর দিচ্ছে না। যেই সব পানির পাম্প চালু আছে সেগুলোতে পানির উৎপাদন বাড়ানো দরকার। শুনেছি প্রতিটি কাজে অনিয়ম দূর্নীতি হচ্ছে সে গুলো তদন্ত করে দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া দরকার। আর ঝিলংজা চান্দের পাড়া এলাকায় যে ওয়াটার ট্রিটমেন্ট প্লান্ট চালু করার কথা সেটা কেন বন্ধ হয়ে আছে জানিনা। দ্রুত সেই প্রকল্প থেকে পানি সরবরাহ করার উদ্দ্যোগ নেওয়া দরকার।
আমার সংবাদের সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
