
কক্সবাজার সৈকতে সড়ক নির্মাণ কাজ ৮ সপ্তাহ বন্ধের নির্দেশ হাইকোর্টের

কক্সবাজার সমুদ্র সৈকতের বালিয়াড়িতে আইন ও আদালতের নির্দেশনা অমান্য করে রাস্তা নির্মাণের ওপর ৮ সপ্তাহের নিষেধাজ্ঞা জারি করেছেন হাইকোর্ট। একই সঙ্গে আদালত অবমাননার মামলার শুনানি ৮ সপ্তাহের জন্য মুলতবি করে রুল জারি করেছেন আদালত।
বুধবার (২ সেপ্টেম্বর ) বিচারপতি জে বি এম হাসান এবং বিচারপতি আজিজ আহমেদ ভূঁইয়ার সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এই নির্দেশ দেন।

দৈনিক কক্সবাজার ৭১ পত্রিকাসহ জেলার সকল সংবাদমাধ্যমে এবং জাতীয় গণমাধ্যমে অবৈধ নির্মাণের প্রতিবেদন প্রকাশিত হওয়ার পর জনস্বার্থে হিউম্যান রাইটস অ্যান্ড পিস ফর বাংলাদেশ (এইচআরপিবি) একটি আদালত অবমাননার পিটিশন এবং পরিবেশবাদী সংগঠন বাংলাদেশ এনভায়রনমেন্টাল লয়ার্স অ্যাসোসিয়েশন (বেলা) নির্মাণকাজ বন্ধের আর্জি জানিয়ে একটি রিট পিটিশন দায়ের করে।
শুনানিতে বেলার পক্ষে আইনজীবী অ্যাডভোকেট মিনহাজুল হক চৌধুরী বলেন, "কক্সবাজার সমুদ্র সৈকত একটি পরিবেশগতভাবে সংকটাপন্ন এলাকা (ইসিএ)। আইন অনুযায়ী সৈকতের ৩০০ মিটারের মধ্যে যেকোনো ধরণের অবকাঠামো নির্মাণ নিষিদ্ধ। তা সত্ত্বেও পরিবেশ অধিদপ্তরের কোনো ছাড়পত্র ছাড়াই কেবল ল্যান্ড ইউজ পারমিশন নিয়ে পৌরসভা বেআইনিভাবে বালিয়াড়ির ওপর সড়ক নির্মাণ করছিল।"
এইচআরপিবি-র পক্ষে সিনিয়র অ্যাডভোকেট মনজিল মোরসেদ যুক্তি তুলে ধরে বলেন, "২০১০ সালে এইচআরপিবি-র রিটের পর ২০১১ সালে হাইকোর্ট সমুদ্র সৈকতের প্রাকৃতিক বৈশিষ্ট্য বজায় রাখা এবং বালিয়াড়ির সব অবৈধ স্থাপনা অপসারণের নির্দেশ দেন। আদালতের নির্দেশে পূর্বে একাধিকবার অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করা হয়েছিল। আদালতের সেই ঐতিহাসিক রায় থাকা সত্ত্বেও কক্সবাজার পৌরসভা পুনরায় বালিয়াড়িতে সড়ক নির্মাণ করে আদালত অবমাননা করেছে।"
অন্যদিকে সরকার পক্ষে অ্যাটর্নি জেনারেল রুহুল কুদ্দুস কাজল এবং ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল (ডিএজি) নূর মোহাম্মদ আজমী শুনানি করেন। তাঁরা দাবি করেন, জনগণের যাতায়াত ও শহরের উন্নয়নের স্বার্থে সরকারের অনুমোদন নিয়েই এই প্রকল্প নেওয়া হয়েছে এবং আদালতকে কোনো অন্তর্বর্তীকালীন আদেশ না দেওয়ার অনুরোধ জানান।
উভয় পক্ষের শুনানি শেষে আদালত বালিয়াড়িতে চলমান সব ধরনের নির্মাণ কাজ আট সপ্তাহের জন্য স্থগিত করার আদেশ দেন।
আদালতে এইচআরপিবি-র পক্ষে শুনানি করেন সিনিয়র অ্যাডভোকেট মনজিল মোরসেদ। তাঁকে সহায়তা করেন অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ সারোয়ার আহাদ চৌধুরী, অ্যাডভোকেট জাহিদুল হক, অ্যাডভোকেট সঞ্জয় মন্ডল এবং অ্যাডভোকেট নাসরিন সুলতানা। বেলার পক্ষে ছিলেন অ্যাডভোকেট মিনহাজুল হক চৌধুরী এবং রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন অ্যাটর্নি জেনারেল রুহুল কুদ্দুস কাজল ও ডিএজি নূর মোহাম্মদ আজমী।
আমার সংবাদের সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
