
রোহিঙ্গা ক্যাম্পে অস্ত্র ও মাদকের গডফাদার 'মৌলভী মোঃ নূর ওরফে আমজাদ' সহ অপরাধ চক্রের দৌরাত্ম্য: সাধারণ রোহিঙ্গাদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ

বিশেষ প্রতিবেদক:
কক্সবাজারের উখিয়া ও টেকনাফস্থ রোহিঙ্গা ক্যাম্পগুলোতে আধিপত্য বিস্তার, অস্ত্র ও মাদক চোরাচালান, মানব পাচার এবং অপহরণের মতো অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। এর ফলে সাধারণ রোহিঙ্গা শরণার্থীদের মাঝে তীব্র আতঙ্ক ও নিরাপত্তাহীনতা দেখা দিয়েছে। বিশেষ করে ক্যাম্প-১১ এবং এর আশেপাশের এলাকায় সক্রিয় বিভিন্ন সশস্ত্র গোষ্ঠী ও অপরাধী সিন্ডিকেটের কারণে প্রতিদিনের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত হচ্ছে।
স্থানীয় ও সচেতন শরণার্থী সূত্রে জানা গেছে, ক্যাম্পগুলোতে একটি শক্তিশালী অপরাধী চক্র মাদকের গডফাদার ও ডিলার হিসেবে অবৈধ মাদক এবং স্বর্ণের চোরাচালান সিন্ডিকেট পরিচালনা করছে। অভিযোগে প্রকাশ, অভিযুক্ত **মৌলভী মোঃ নূর ওরফে আমজাদ** (পিতা: মোহাম্মদ আলম, ক্যাম্প-১১, সিনিয়র কমান্ডার পরিচয়ে সক্রিয়)-এর নেতৃত্বে একটি বিশাল অপরাধ নেটওয়ার্ক কাজ করছে।তার বিরোদ্ধে উখিয়া থানায় রয়েছে ফৌজদারী অপরাধে মামলা(যার মামলা নং-৬৭,তাং-৩০/০৭/২০২৬ইং)।তথ্যমতে এই সিন্ডিকেটে ৬০ থেকে ৭০ জন সদস্য রয়েছে, যারা মানব পাচার এবং অবৈধ অস্ত্র ব্যবসার সাথে সরাসরি জড়িত।

ক্যাম্পের একটি অংশ জানায়, বিভিন্ন সশস্ত্র গোষ্ঠী ও তথাকথিত সংগঠনের নাম ভাঙিয়ে এরা সীমান্তপারের বিভিন্ন পক্ষের সাথে আঁতাত করে ক্যাম্পের পরিবেশ অস্থিতিশীল করে তুলছে। এসব অবৈধ অস্ত্রধারীদের কারণে প্রায়শই ক্যাম্পে গোলাগুলি, অপহরণ এবং সাধারণ রোহিঙ্গাদের ভয়ভীতি দেখানোর ঘটনা ঘটছে, যা রোহিঙ্গা শরণার্থী প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়াকেও বাধাগ্রস্ত করছে।
ক্যাম্পের সার্বিক নিরাপত্তা বজায় রাখতে এবং অপরাধীদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী (পুলিশ, এপিবিএন ও গোয়েন্দা সংস্থা) তৎপর রয়েছে।
তবে সাধারণ রোহিঙ্গারা অবিলম্বে অভিযুক্ত **মৌলভী মোঃ নূর প্রকাশ আমজাদ** ও তার সহযোগীদের গ্রেফতার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন, যাতে ক্যাম্পগুলোতে স্থায়ী শান্তি ও আইনের শাসন প্রতিষ্ঠিত হয়।
আমার সংবাদের সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
