
সুগন্ধা পয়েন্টে এস আলমের বাতিল প্লট দখল-বেদখলের মহড়া, নীরব ভূমিকা প্রশাসনের

কক্সবাজার শহরের অতি-সংবেদনশীল ও ব্যস্ততম পর্যটন এলাকা সুগন্ধা পয়েন্টে বিতর্কিত এস আলম গ্রুপের বাতিলকৃত একটি মূলবান প্লট দখলকে কেন্দ্র করে চরম উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে। রাতের অন্ধকারে এক পক্ষ টিনের ঘেরাবেড়া দিয়ে দখলের চেষ্টা চালাচ্ছে, আবার পরদিনই দিনের আলোতে অপর পক্ষ তা ভেঙে বেদখলের জন্য অস্ত্রশস্ত্র ও লাঠিসোটা নিয়ে মহড়া দিচ্ছে। সমুদ্রসৈকত সংলগ্ন এই গুরুত্বপূর্ণ স্থানে এমন প্রকাশ্যে দখল-বেদখলের প্রতিযোগিতা চললেও প্রশাসন রহস্যজনক নীরব ভূমিকা পালন করছে বলে অভিযোগ তুলেছেন স্থানীয়রা।
স্থানীয় সূত্র ও প্রত্যক্ষদর্শীদের কাছ থেকে জানা গেছে, সুগন্ধা পয়েন্টে এস আলম গ্রুপের নামে বরাদ্দকৃত ওই বিতর্কিত প্লটটির বরাদ্দ সম্প্রতি সরকারি নির্দেশে বাতিল করা হয়। জমিটি বর্তমানে সরকারি খাস জমি হিসেবে গণ্য হলেও এর পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ এখন ভূমিদস্যু ও স্থানীয় প্রভাবশালী সিন্ডিকেটের নজরে।
গত কয়েক দিন ধরে এলাকাটিতে এক অদ্ভুত পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে। রাতের আঁধারে একদল সশস্ত্র লোক এসে মুহূর্তের মধ্যেই বিশাল এলাকা জুড়ে টিনের বেড়া দিয়ে সীমানা প্রাচীর তৈরি করে ফেলে। এরপর সকাল হতেই অন্য একটি প্রভাবশালী দল এসে সেই টিনের ঘেরা ভেঙে চুরমার করে দেয় এবং পুরো এলাকা নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নিতে দেশীয় অস্ত্র নিয়ে এলাকায় শোডাউন ও মহড়া দেয়। দুই পক্ষের এই মহড়া ও পাল্টাপাল্টি ধাওয়ার ঘটনায় চরম আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন আশপাশের ব্যবসায়ী ও বেড়াতে আসা সাধারণ পর্যটকরা।
সুগন্ধা এলাকার কয়েকজন ব্যবসায়ী নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, "যে কোনো মুহূর্তে দুই পক্ষের মধ্যে বড় ধরনের রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ ঘটতে পারে। পর্যটন মৌসুমে এই ধরনের সন্ত্রাসী মহড়া কক্সবাজারের ভাবমূর্তি দারুণভাবে ক্ষুণ্ন করছে। রাতে একদল লোক টিন মারে, দিনে আরেক দল আইসা তা ভেঙে গুড়াইয়া দেয়। প্রকাশ্যে এসব ঘটলেও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কোনো নজরদারি চোখে পড়ছে না।"
এদিকে সরকারি গুরুত্বপূর্ণ ও বহুমূল্যের জমি এভাবে একের পর এক দখল ও মহড়া চলার পরও জেলা প্রশাসন বা কক্সবাজার উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (কউক) দৃশ্যমান কোনো ভূমিকা না থাকায় জনমনে তীব্র অসন্তোষ ও নানা প্রশ্নের সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয় সচেতন মহল মনে করছেন, প্রশাসনের নীরবতার সুযোগে একটি মহল রাতারাতি সরকারি জমিটি পুরোপুরি কব্জা করার পাঁয়তারা করছে।
এ বিষয়ে স্থানীয় বাসিন্দারা দ্রুত সুগন্ধা পয়েন্টের ওই বাতিলকৃত প্লটটি উদ্ধার করে সরকারি নিয়ন্ত্রণে নেওয়া এবং অবৈধ দখলদারদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ ও পর্যটন এলাকায় নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর জরুরি হস্তক্ষেপ দাবি জানিয়েছেন।
আমার সংবাদের সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
