
আদালতের আদেশকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে কলাতলী সরকারি প্লটে মার্কেট নির্মাণ
২৪ ঘন্টার মধ্যে স্থাপনা সরাতে জেলা প্রশাসনের নির্দেশ

- ১ অক্টোবর দুপুরের মধ্যে উচ্ছেদ না হলে গুঁড়িয়ে দিয়ে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারি
বিশেষ প্রতিবেদক:

কক্সবাজার শহরের প্রধান পর্যটন অঞ্চল কলাতলীতে উচ্চ আদালতের নির্দেশ অমান্য করে সরকারি খাস জমিতে গড়ে ওঠা অবৈধ মার্কেট ও স্থাপনা নিজ উদ্যোগে সরাতে ২৪ ঘণ্টার আল্টিমেটাম দিয়েছে জেলা প্রশাসন। বেঁধে দেওয়া সময়ের মধ্যে নতুন-পুরোনো মিলে এসব ৩৫টি অবৈধ স্থাপনা সরিয়ে না নিলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সহায়তায় বড় ধরনের উচ্ছেদ অভিযান চালিয়ে সব গুঁড়িয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) দুপুরে জেলা প্রশাসনের পক্ষে এ সংক্রান্ত চূড়ান্ত নোটিশ জারি করা হয়। নোটিশে ১ অক্টোবর (বৃহস্পতিবার) দুপুরের মধ্যে নির্মাণাধীন ও নির্মিত সব ধরনের দোকান এবং কাউন্টার সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, কলাতলী মোড় সংলগ্ন বিএস খতিয়ান নং-০১-এর ৩০ নম্বর প্লটে (দাগ ২০০০৩) আদালতের স্থিতাবস্থা তোয়াক্কা না করে গত কিছুদিন ধরে টিনের বেড়া দিয়ে অবৈধ মার্কেট নির্মাণের খবর বিভিন্ন গণমাধ্যমে গুরুত্বের সঙ্গে প্রকাশিত হয়। বিষয়টি নজরে আসার পর কক্সবাজারের জেলা প্রশাসক আ. মান্নান সরেজমিন তদন্তের নির্দেশ দেন। তদন্তে সত্যতা পাওয়ার পর অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট (এডিএম) তাসনীম জাহান আল্টিমেটামের নোটিশ জারি করেন।
জারি করা নোটিশ অনুযায়ী, ওই সরকারি জমিতে নতুন করে নির্মাণাধীন ২০টি দোকানসহ পূর্বে গড়ে ওঠা বিভিন্ন বাস কাউন্টার, ট্রাভেল এজেন্সি ও বৈশাখী রেস্টুরেন্টসহ মোট ৩৫টি অননুমোদিত স্থাপনা দখলদারদের নিজ খরচে সরিয়ে নিতে বলা হয়েছে।
অভিযুক্ত বৈশাখী রেস্টুরেন্টের স্বত্বাধিকারী কামরুলের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি স্বীকার করেন, কোনো প্রাতিষ্ঠানিক অনুমতি ছাড়াই ওই জমিতে মার্কেট নির্মাণের কাজ চালানো হচ্ছিল। ৩০ সেপ্টেম্বর দুপুরে জেলা প্রশাসন থেকে কাজ বন্ধের নির্দেশ ও নোটিশ দেওয়া হয়েছে। নোটিশ অনুযায়ী আমরা আগামী ১ অক্টোবর দুপুরের মধ্যে নিজ উদ্যোগে সব অবৈধ স্থাপনা সরিয়ে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছি এবং ওই জমির দখল ছেড়ে দেব।
এ বিষয়ে কক্সবাজারের জেলা প্রশাসক আ. মান্নান স্পষ্ট জানিয়ে দেন, বিষয়টি আমরা কঠোর পর্যবেক্ষণে রেখেছি। সংবাদমাধ্যমে খবর প্রকাশের পর জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে লাল নোটিশ দেওয়া হয়েছে এবং ১ দিনের সময়সীমা বেঁধে দেওয়া হয়েছে। সরকারি খাস বা বাতিলকৃত প্লটে কোনো ধরনের অবৈধ স্থাপনা নির্মাণ সম্পূর্ণ বেআইনি। সরকারি সম্পত্তি দখলমুক্ত করতে জেলা প্রশাসন 'জিরো টলারেন্স' নীতিতে রয়েছে। নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে না সরালে কঠোর আইনি পদক্ষেপ ও মোবাইল কোর্ট পরিচালনার মাধ্যমে সব অবৈধ স্থাপনা গুঁড়িয়ে দেওয়া হবে।
আমার সংবাদের সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
