
কক্সবাজার সদর থানায় ওসি শেখ মোহাম্মদ আলীর সাফল্য
পেশাদারত্ব ও জোরালো অভিযানে বদলে গেছে আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি

কক্সবাজার সদর মডেল থানায় ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হিসেবে শেখ মোহাম্মদ আলী দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকে জেলা শহরের সার্বিক আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতিতে এসেছে ব্যাপক ও ইতিবাচক পরিবর্তন। পেশাদারত্ব, অপরাধ দমনে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি এবং জনবান্ধব পুলিশিংয়ের মাধ্যমে তিনি সাধারণ মানুষের মাঝে আস্থা ফেরাতে সক্ষম হয়েছেন। পর্যটন নগরীর নিরাপত্তা নিশ্চিতের পাশাপাশি মাদক, চোর-ছিনতাইকারী ও কিশোর গ্যাং দমনে তাঁর নেতৃত্বাধীন পুলিশের একের পর এক সফল অভিযান সর্বমহলে প্রশংসিত হচ্ছে।
সংগৃহীত মাসিক অপরাধ ও মাদক উদ্ধারের পরিসংখ্যান বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, তাঁর কৌশলী ও ধারাবাহিক অভিযানে শীর্ষ মাদক কারবারি ও চিহ্নিত অপরাধীদের গ্রেপ্তারসহ বিপুল পরিমাণ মাদকদ্রব্য জব্দ করতে সক্ষম হয়েছে থানা পুলিশ।কক্সবাজারকে মাদকমুক্ত করতে ওসি শেখ মোহাম্মদ আলীর নেতৃত্বে থানা পুলিশ নিয়মিত সাঁড়াশি অভিযান পরিচালনা করছে। সাম্প্রতিক দুই মাসের পরিসংখ্যানে দেখা যায়, আগস্ট/২০২৬: থানা পুলিশের অভিযানে মোট ২৪,৬২২ পিস ইয়াবা, ৮৭০ গ্রাম গাঁজা এবং ২৪৮ লিটার মদ উদ্ধার করা হয়। এর মধ্যে ৩০ আগস্ট ঝিলংজা ইউনিয়নের লিংক রোডস্থ বেতার কেন্দ্র এলাকায় বিশেষ তল্লাশি চালিয়ে ২৪,০০০ পিস ইয়াবাসহ ২ জন কারবারিকে গ্রেপ্তার এবং ব্যবহৃত গাড়ি জব্দ করা হয়।সেপ্টেম্বর মাসে পরিচালিত অভিযানে ২২,০৯৩ পিস ইয়াবা, ১ কেজি ৭০ গ্রাম গাঁজা এবং ৪৪০ লিটার মদ উদ্ধার করা হয়। বিশেষ করে ২০ সেপ্টেম্বর কক্সবাজার সরকারি কলেজের দোলনাচাঁপা ছাত্রীনিবাস এলাকা থেকে ২০,০০০ পিস ইয়াবাসহ ১ জন আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়।

আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা ও সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে অপরাধীদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনতে সদর থানা পুলিশ বিশেষ অভিযান জোরদার করা হয়েছে। আগস্ট মাসে বিভিন্ন মামলায় ১৮ জন আসামিকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হলেও, সেপ্টেম্বরে এক অনন্য সাফল্য অর্জন করে পুলিশ। গতমাসে (সেপ্টেম্বর) কক্সবাজার সদর থানা পুলিশ রেকর্ড ৫৮০ জন আসামীকে গ্রেপ্তার করে।
সেপ্টেম্বর মাসের গ্রেপ্তারের বিবরণে দেখা যায়,চোর ও ছিনতাইকারী ১৮৯ জন,মাদক ব্যবসায়ী ৫০ জন,মাদক ব্যবসায়ী এবং ১৭০ জন মাদক সেবনকারীসহ মোট ২২০ জন এবং কিশোর গ্যাং সদস্য ৫৮ জন,গ্রেপ্তারি পরোয়ানা (ওয়ারেন্ট) তামিল ১১৩ জন,নিয়মিত মামলা ও অন্যান্যসহ নিয়মিত মামলায় ২৪ জন এবং পেনাল কোডের ২৯০ ধারায় (জনউপদ্রব/সামাজিক অনাচার) ৩৪ জন।
কক্সবাজার বিশ্বের দীর্ঘতম সমুদ্রসৈকত কেন্দ্রিক অন্যতম প্রধান পর্যটন নগরী। সুগন্ধা, লাবণী ও কলাতলী পয়েন্টসহ সৈকত সংলগ্ন এলাকায় পর্যটক হয়রানি রোধ, দালাল চক্র ও ছিনতাইকারীদের দৌরাত্ম্য বন্ধে নিয়মিত টহল ও চেকপোস্ট বৃদ্ধি করা হয়েছে। নির্জন স্থান ও বাইপাস সড়কে নিয়মিত নজরদারির ফলে পর্যটক ও স্থানীয় বাসিন্দারা রাতেও নিরাপদে ও নিশ্চিন্তে চলাচল করতে পারছেন।
সাধারণ মানুষের কাছে পুলিশি সেবাকে সহজ ও পৌঁছানোযোগ্য করতে থানা প্রাঙ্গণে হয়রানিমুক্ত পরিবেশ নিশ্চিত করা হয়েছে। জিডি বা অভিযোগ দিতে আসা সেবাগ্রহীতারা যাতে কোনো দালাল বা মধ্যস্বত্বভোগীর খপ্পরে না পড়েন, সে বিষয়ে ওসি কঠোর অবস্থান নিয়েছেন। এছাড়া নিয়মিত ‘ওপেন হাউজ ডে’ আয়োজনের মাধ্যমে স্থানীয়দের সমস্যা শুনে তাৎক্ষণিক সমাধানের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
মাদকবিরোধী অভিযানে অসাধারণ সাফল্য, পেশাদারিত্ব ও সাহসিকতাপূর্ণ ভূমিকার স্বীকৃতি হিসেবে ২০২৬ সালের জুন-জুলাই মাসে চট্টগ্রাম বিভাগের শ্রেষ্ঠ ওসি নির্বাচিত হয়েছেন কক্সবাজার সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শেখ মোহাম্মদ আলী।গত ২৭ জুলাই বাংলাদেশ পুলিশ চট্টগ্রাম রেঞ্জ ডিআইজির কার্যালয়ে আয়োজিত অনুষ্ঠানে চট্টগ্রাম রেঞ্জের ডিআইজি (অতিরিক্ত আইজিপি) মোহাম্মদ মনিরুজ্জামান তাঁর হাতে সম্মাননা ক্রেস্ট ও পুরস্কার তুলে দেন।এসময় উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম বিভাগের অতিরিক্ত ডিআইজি (অ্যাডমিন), অতিরিক্ত ডিআইজি (ক্রাইম), অতিরিক্ত ডিআইজি (ইন্টেলিজেন্স), বিভিন্ন জেলার পুলিশ সুপার, অতিরিক্ত পুলিশ সুপারসহ ঊর্ধ্বতন পুলিশ কর্মকর্তারা।
সম্মাননা গ্রহণের পর প্রতিক্রিয়ায় ওসি শেখ মোহাম্মদ আলী বলে ছিলেন,বাংলাদেশ পুলিশ চট্টগ্রাম বিভাগের এই সম্মাননা প্রাপ্তিতে মহান আল্লাহর দরবারে শুকরিয়া আদায় করছি। এই অর্জন শুধু আমার একার নয়; কক্সবাজার জেলা পুলিশ, সম্মানিত পুলিশ সুপার, অতিরিক্ত পুলিশ সুপারবৃন্দ, সদর মডেল থানার সকল সহকর্মী এবং কমিউনিটি পুলিশের সদস্যদের সম্মিলিত প্রচেষ্টার ফল।আমার পেশাগত জীবনের একমাত্র লক্ষ্য—অপরাধী যেই হোক, তাকে আইনের আওতায় আনতে হবে এবং সমাজকে মাদকমুক্ত করতে সর্বোচ্চ নিষ্ঠার সঙ্গে কাজ করে যেতে হবে।
প্রসঙ্গত, সৎ, দক্ষ ও পেশাদার পুলিশ কর্মকর্তা হিসেবে পরিচিত শেখ মোহাম্মদ আলী কর্মজীবনে সততা ও নিষ্ঠার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করে কক্সবাজার জেলা পুলিশে ১৪ বার শ্রেষ্ঠ ওসির খেতাব অর্জনের গৌরবময় রেকর্ড গড়েছেন।
স্থানীয় সচেতন মহল ও সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা জানান, ওসি শেখ মোহাম্মদ আলীর দূরদর্শী পদক্ষেপ ও মাঠপর্যায়ে কঠোর অবস্থানের কারণে অপরাধীদের মনে আতঙ্কের সৃষ্টি হয়েছে এবং সর্বসাধারণের মাঝে স্বস্তি ফিরে এসেছে।
আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা, মাদকবিরোধী অভিযান, জনবান্ধব পুলিশিং এবং অপরাধ দমনে তাঁর ধারাবাহিক সাফল্যের কারণে তিনি সহকর্মী ও সাধারণ মানুষের কাছেও একজন পরিচ্ছন্ন, মানবিক ও দক্ষ পুলিশ কর্মকর্তা হিসেবে ব্যাপক প্রশংসিত।
এ বিষয়ে কক্সবাজার সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শেখ মোহাম্মদ আলী দৈনিক কক্সবাজার ৭১ কে জানান,“সদর উপজেলায় যারা মাদক সেবন ও বিক্রির সাথে জড়িত, তাদের সবাইকে স্পষ্ট ভাষায় বলছি-সব ধরনের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড অবিলম্বে বন্ধ করুন। তা না হলে অপরাধী যত বড়ই প্রভাবশালী, মাস্তান বা রাজনৈতিক নেতাই হোন না কেন, আইনি প্রক্রিয়ায় কাউকে বিন্দুমাত্র ছাড় দেওয়া হবে না।কক্সবাজারকে একটি সম্পূর্ণ নিরাপদ, মাদকমুক্ত ও অপরাধমুক্ত নগরী হিসেবে গড়ে তোলাই আমাদের প্রধান লক্ষ্য। পর্যটক ও স্থানীয় প্রতিটি নাগরিকের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কক্সবাজার সদর থানা পুলিশ ২৪ ঘণ্টা মাঠে রয়েছে। অপরাধ ও অন্যায়ের বিরুদ্ধে পেশাদারিত্বের সাথে এই ‘জিরো টলারেন্স’ অভিযান অব্যাহত থাকবে।
আমার সংবাদের সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
