advertisement

প্রেমের টানে ঘরছাড়ার প্রবণতা বৃদ্ধি, ঝুঁকিতে অপ্রাপ্তবয়স্ক শিক্ষার্থীরা

মো: আবুল হাশেম

মো: আবুল হাশেম

অক্টোবর ০৯, ২০২৬, ১০:২৫

প্রেমের টানে ঘরছাড়ার প্রবণতা বৃদ্ধি, ঝুঁকিতে অপ্রাপ্তবয়স্ক শিক্ষার্থীরা
ছবি: সংগৃহীত

পর্যটন নগরী কক্সবাজার জেলাজুড়ে সাম্প্রতিক সময়ে প্রেমের টানে বা প্ররোচনায় পড়ে পরিবারের অজান্তে ঘরছাড়ার প্রবণতা আশঙ্কাজনকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। জেলার বিভিন্ন উপজেলা ও উপকূলীয় এলাকাগুলো থেকে গত কয়েক মাসে বহু কিশোরী ও তরুণী নিখোঁজ হওয়ার খবর পাওয়া গেছে, যাদের একটি বড় অংশই স্থানীয় বিভিন্ন স্কুল ও মাদ্রাসার শিক্ষার্থী। কিশোর-কিশোরীদের এমন আবেগপ্রবণ সিদ্ধান্তে স্থানীয় অভিভাবক, শিক্ষাবিদ ও সচেতন মহলে গভীর উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে।


আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, অনিয়ন্ত্রিত অনলাইন যোগাযোগ ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের (ফেসবুক, টিকটক, ইমো ইত্যাদি) মাধ্যমে অপরিচিত বা অল্প পরিচিত ব্যক্তিদের সাথে সম্পর্কের সূত্রপাতই এসব ঘটনার মূল অনুঘটক। পড়ালেখার অজুহাতে অপ্রাপ্তবয়স্কদের হাতে স্মার্টফোন তুলে দেওয়া এবং অনলাইনে তাদের কর্মকাণ্ডের ওপর নজরদারি না থাকায় আবেগের বশে তারা ঘর ছাড়ার মতো ঝুঁকিপূর্ণ পদক্ষেপ নিচ্ছে। অধিকাংশ ক্ষেত্রে পরিবারের অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ প্রযুক্তি ব্যবহার করে নিখোঁজদের অবস্থান শনাক্ত ও উদ্ধার করে স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করছে।

featured banner


কক্সবাজার সদর থানার ওসি শেখ মোহাম্মদ আলী বলেন, স্কুল কলেজ পড়ুয়া মেয়েরা আবেগের বশে কারও প্ররোচনায় পড়ে ঘর ছাড়ছে, এটা খুবই উদ্বেগের বিষয় এবং সামাজিক অবক্ষয় বলতে হবে।নিখোঁজের অভিযোগ পাওয়া মাত্রই উদ্ধার অভিযানে জোর দেওয়া হয়। তবে কিশোর-কিশোরীরা প্রায়শই আইনি জটিলতা বা নিজেদের নিরাপত্তা না ভেবে আবেগের বশে প্ররোচনায় পা দেয়।এই অবক্ষয় থেকে রেহায় পেতে হলে পরিবারে এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নৈতিক শিক্ষা জোরদার করতে হবে।


তিনি আরো বলেন, পরিবারের অগোচরে যখন ছেলে মেয়েরা ঘর ছেড়ে পালিয়ে যায়, অভিভাবকরা আমাদের কাছে ছুটে আসেন। তথ্য-প্রযুক্তির সহায়তায় অবস্থান শনাক্তসহ প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। তবে এক্ষেত্রে অভিভাবকদের আরও সচেতন হতে হবে। ছেলে-মেয়েরা লেখাপড়ার নাম করে কোথায় যাচ্ছে, কাদের সঙ্গে মিশছে কঠোর নজরদারি বাড়াতে হবে।


উপজেলা প্রশাসন ও সামাজিক সংগঠনগুলোর মতে, কক্সবাজারের আর্থ-সামাজিক প্রেক্ষাপট এবং পর্যটনকেন্দ্রিক পরিবেশের কারণে এখানকার তরুণ প্রজন্মের মাঝে প্রযুক্তির প্রভাব অনেক বেশি। কিন্তু সন্তান ও মা-বাবার মধ্যে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কের অভাব, পারিবারিক মূল্যবোধের শিথিলতা এবং সামাজিক সচেতনতার ঘাটতি এই সমস্যাকে আরও ঘনীভূত করছে।


কক্সবাজারের সচেতন সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা মনে করছেন, এ ধরনের সামাজিক অবক্ষয় রুখতে হলে বহুমাত্রিক উদ্যোগ প্রয়োজন। প্রথমত, পরিবারে সন্তানদের সঙ্গে খোলামেলা ও বন্ধুত্বপূর্ণ যোগাযোগের পরিবেশ তৈরি করতে হবে। দ্বিতীয়ত, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে কিশোর-কিশোরীদের শারীরিক ও মানসিক পরিবর্তন এবং অনলাইন নিরাপত্তা বিষয়ে সচেতনতামূলক সেশন আয়োজন করতে হবে। এছাড়া, কোনো শিক্ষার্থী নিখোঁজ হলে বিষয়টি লুকিয়ে না রেখে অবিলম্বে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে জানানোর জন্য অভিভাবকদের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।


অভিভাবকদের মতে, সন্তানদের সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক তৈরি করে তাদের চলাফেরা ও অনলাইন যোগাযোগ সম্পর্কে সচেতন থাকা প্রয়োজন। একই সঙ্গে কোনো তরুণ-তরুণী নিখোঁজ হলে বিষয়টি গোপন না রেখে দ্রুত আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে জানানোর পরামর্শ দিয়েছেন তারা।


বিশেষজ্ঞদের মতে, সমাজ, প্রশাসন, পুলিশ ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের যৌথ ও সম্মিলিত প্রয়াস ছাড়া অপ্রাপ্তবয়স্কদের এই বিপথগামিতা রোধ করা সম্ভব নয়।

google-news-feed আমার সংবাদের সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
সম্পর্কিত খবর
রামুতে নৌকাবাইচ প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত

রামুতে নৌকাবাইচ প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত

জালিমের প্রাসাদ যত উঁচুই হোক, ন্যায়বিচারের আকাশ তারও ঊর্ধ্বে।

জালিমের প্রাসাদ যত উঁচুই হোক, ন্যায়বিচারের আকাশ তারও ঊর্ধ্বে।

সার সংকটে উখিয়ার প্রান্তিক কৃষকরা

সার সংকটে উখিয়ার প্রান্তিক কৃষকরা

উখিয়া বন বিভাগের ঘুম ভাঙবে কবে

উখিয়া বন বিভাগের ঘুম ভাঙবে কবে

২৪ ঘন্টার মধ্যে স্থাপনা সরাতে জেলা প্রশাসনের নির্দেশ

২৪ ঘন্টার মধ্যে স্থাপনা সরাতে জেলা প্রশাসনের নির্দেশ

কক্সবাজার পৌরসভার ৫ নং ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর সাহাব উদ্দিন সিকদার আর নেই

কক্সবাজার পৌরসভার ৫ নং ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর সাহাব উদ্দিন সিকদার আর নেই

সর্বশেষ সংবাদ